সংবাদদাতা, বোলপুর: এবার রাজ্যে ভরাডুবি হলেও বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ। তবে জয়ের পরও বোলপুর শহরের ফলাফল নিয়ে দলের অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এবারও শহর এলাকায় তৃণমূলের ফল অত্যন্ত শোচনীয়। শহরের ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২০টিতেই পিছিয়ে পড়েছে জোড়াফুল। এমনকি চন্দ্রনাথবাবু এবং তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের ওয়ার্ডেও ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। শহরাঞ্চলে কেন বারবার পিছিয়ে পড়ছে তৃণমূল? উঠছে প্রশ্ন।
ভোটের আগে প্রতিটি ওয়ার্ড ধরে নির্বাচনি জনসভা করেছিল তৃণমূল। একটি সভায় অনুব্রত মণ্ডলের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের ওয়ার্ডের ফলাফল নিয়ে কার্যত আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন চন্দ্রনাথ। নিজের ওয়ার্ডের কর্মিসভায় চন্দ্রনাথ আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ইলামবাজার ব্লকে তৃণমূল ভালো ফল করলেও বোলপুর শহরের অধিকাংশ ওয়ার্ডে দল পিছিয়ে পড়ছে। তাঁর দাবি ছিল, ২০১৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে তাঁর নিজের ওয়ার্ডেও তৃণমূল প্রত্যাশিত ফল করতে পারছে না। নিজের ওয়ার্ডে বারবার হারার কারণে দলীয় স্তরে তাঁকে নানা কথা শুনতে হয় বলেও জানিয়েছিলেন। অনুব্রতর ওয়ার্ডেও তৃণমূল পিছিয়ে পড়ায় নেতৃত্বকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছিল।
এবার শহরের অধিকাংশ ওয়ার্ডেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। চন্দ্রনাথের ২১নম্বর ওয়ার্ডে ১৩৬টি ভোটে পিছিয়ে তৃণমূল। এমনকি অনুব্রত মণ্ডলের ২২নম্বর ওয়ার্ডেও ১৪৯৬ ভোটে পিছিয়ে তৃণমূল। পুরসভার চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষের ১২নম্বর ওয়ার্ডেও ২৬৬ ভোটে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। জানা গিয়েছে, সার্বিকভাবে ২০টি ওয়ার্ডে বিজেপি ১৬হাজার ৮২২ ভোটে এগিয়ে। শহরে মাত্র দু’টি ওয়ার্ডে সামান্য লিড পেয়েছে তৃণমূল। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৫১ ও ১৫নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল ৯২১টি ভোটে এগিয়ে রয়েছে। এনিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ, দলেরই সংগঠনের উপরই আস্থা ছিল না তৃণমূল নেতৃত্বের। ভোটের ফলে তার প্রমাণ দেখা গিয়েছে। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, সারা রাজ্যের মানুষ এবারের নির্বাচনে তৃণমূলকে জবাব দিয়েছে। ওদের নেতা-মন্ত্রীরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের উন্নয়ন করেছেন। সাধারণ মানুষের সমস্যা ও অভাব-অভিযোগের দিকে নজর দেননি। এবার বিজেপি সরকার গঠন করে মানুষের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।
যদিও এই ফল নিয়ে চন্দ্রনাথবাবু বলেন, আমরা শহরের ভোট ফেরানোর জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ফল ভাল হয়নি। কেন এমন হল তা পরে বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। অনেক মানুষই আমাদের ভোট দিয়েছেন। আগে যেমন কাজ করেছি আগামী দিনেও বিধায়ক হিসেবে সেভাবেই কাজ করব।