সতর্ক করলেও কেউ শোনেনি: বাইচুং, ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ পাহাড়ি বিছের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘কিক হিম আউট।’ ফোনের ওপারে রীতিমতো গর্জে উঠলেন বাইচুং ভুটিয়া। ভারতীয় ফুটবলের পালস হাড়ে হাড়ে বোঝেন তিনি। আগেই সতর্ক করেছিলেন, কোনো পরিকল্পনা ছাড়া ব্রাজিল, উরুগুয়ের মতো দলকে আনা স্রেফ বোকামি। ডুবতে হবে ফেডারেশনকেই। বাইচুংয়ের আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ম্যাচ থেকে কানাকড়ি লাভ হয়নি। উলটে দেনায় জর্জরিত সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। মুঠোফোনে বাইচুং বললেন, ‘পইপই করে সতর্ক করেছিলাম। তখন কেউ আমার কথা শোনেনি। এখন ফেডারেশন সভাপতিকেই দায়িত্ব নিতে হবে।’ সূত্রের খবর, ব্রাজিল, উরুগুয়েকে দিতে হবে প্রায় ২৬ কোটি টাকা। নানা খাতে ভেন্ডারদের প্রাপ্য ধরলে অঙ্ক প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। অথচ ফেডারেশনের ভাঁড়ে মা ভবানী। চলতি আর্থিক বছরে এখনও পর্যন্ত ১৪ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। বাইচুং বললেন, ‘এটা হওয়ারই ছিল। অযোগ্য চেয়ারে বসলে অন্য কিছু আশা করা যায় না।’ দায় মেটাতে ফেডারেশনের এসজিএমে ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সভাপতি। বাকিদের তীব্র আপত্তিতে তা ধোপে টেকেনি। এই প্রসঙ্গে বাইচুংয়ের মন্তব্য, ‘নিজের স্বার্থে ফেডারেশনকে বিক্রি করছে কল্যাণ। সবাই মিলে প্রতিবাদ করা উচিত।’ উল্লেখ্য, একসময় ফেডারেশনের নির্বাচনে বাইচুংকে হারিয়েই সভাপতির চেয়ারে বসেছিলেন কল্যাণ চৌবে। অভিযোগ উঠেছিল রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়েই তাঁর যাবতীয় বাড়বাড়ন্ত। দিনের পর দিন সভাপতির বিরুদ্ধে বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কলকাতায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। 

Advertisement

ডিরেক্টর সুব্রত পালও কম নন। তাঁর আসল দায়িত্ব ঠিক কী? তা নিয়েও চরম রহস্য। ম্যাচ আয়োজনের খুঁটিনাটি নানা বিষয়ে প্রাক্তন গোলরক্ষক জড়িত। ফেডারেশনের অন্দরে ফিসফাস নিজেকে ভারতের লেভ ইয়াসিন মনে করা মিষ্টুর কাছেও জবাব চাওয়া হোক। ফেডারেশন গাড্ডায়। এখন দায় এড়ালে চলবে কি করে! সম্মান বাঁচাতে প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল প্যাটেলকে অনুরোধ করতেও দ্বিধা করেননি বর্তমান সভাপতি। সূত্রের খবর, চার বছর আগে তাঁর আমলেও প্রায় ৫২ কোটি টাকার  ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ফেডারেশনের। বর্তমানে তার পরিমাণ ২০ কোটি টাকা। ফেডারেশনের প্রাক্তন সহ-সভাপতি সুব্রত দত্তের মন্তব্য, ‘আগামী কয়েক মাসে লোকসানের পরিমাণ কোথায় পৌঁছাবে তা ভেবে শিউরে উঠছি। ভারতীয় ফুটবলকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিয়েছেন বর্তমান সভাপতি। খোলনলচে পাল্টানো দরকার।’