সায়নদীপ ঘোষ: সঞ্জয় লীলা বনশালীর মতো গল্প বলার নিজস্ব ঘরানা তোমার আছে? একসময় পরিচালক মোহিত সুরির স্ত্রী এই প্রশ্নটা তাঁকে করেছিলেন। ‘সাইয়ারা’য় কিছুটা হলেও এই প্রশ্নের জবাব দিতে পেরেছেন মোহিত। প্রেম, বিচ্ছেদ আর আবেগ মিশিয়ে নিছক রোমান্টিক গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। তবে চিত্রনাট্য দুর্বল আর ক্লাইমাক্স পরিচিত। তবে রোম্যান্স আছে আগের মতোই। নবাগত জুটি অহন পাণ্ডে ও অনিত পাড্ডার অভিনয় এবং চরিত্রের প্রতি নিষ্ঠাও চোখে পড়ে। সঙ্গে প্রাপ্তি সঙ্গীতের সুদক্ষ প্রয়োগ।
মোহিতের অনেক ছবির মতো এখানেও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা দিয়েই শুরু হচ্ছে মূল কাহিনি। রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে বাণী বাত্রা (অনিত) জানতে পারে তার বিয়ে ভেঙে গিয়েছে। এই কঠিন সময় তার জীবনে আসে কৃষ কাপুর (অহন)। খামখেয়ালি, রাগী এক যুবক। সঙ্গীতের দুনিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। কিন্তু বারবার ধাক্কা খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে বাণীর সদ্য বিয়ে ভেঙেছে। নিষ্পাপ, সরল হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটে থাকে। এই অন্ধকার অতীত দু’জনকে কাছে নিয়ে আসে। তবে চিত্রনাট্য জোরালো না হওয়ায় দর্শকের মনে দাগ কাটতে পারে না কৃষ-বাণীর প্রেম কাহিনি। গল্পের শুরুতে নেপোটিজম নিয়ে কৃষের দীর্ঘায়িত সংলাপ বেমানান। অন্যদিকে বাণীর অস্বাভাবিক আচরণের কারণও শুরুতে জানা যায় না। গল্প কিছুটা এগলে অবশ্য তা কিছুটা স্পষ্ট হয়। শেষদিকে খানিক জোর করেই বাণীর অতীত প্রেমের প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন পরিচালক। সেটাও খুব একটা মানানসই নয়। সমুদ্র থেকে বরফ ঘেরা পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য— বলিউডি ছবির সব মশলা রয়েছে এখানে। কিন্তু রান্নাটা যে ভালো হয়নি। চোখের পলকে কৃষের উত্থান বাস্তবকেও হার মানায়। তবে বিরতির পর অভিনেতা হিসেবে সেরাটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন অহন।
বিবিধ খামতি সত্ত্বেও একটি উপাদান এই নড়বড়ে গল্পকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। সঙ্গীত। মিউজিক মোহিতের ছবির ইউএসপি। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আবহ সঙ্গীতও চমৎকার। ছবি দেখতে দেখতে ‘আশিকি ২’ বা ‘রকস্টার’-এর কথা মনে পড়তে পারে।
এই সিনেমায় যুক্তি খুঁজতে কেউই চান না। ঘণ্টা দুয়েক বিনোদন পেলেই দর্শক খুশি। তবে সময় বদলেছে। গল্প বলার ধরন পাল্টেছে। সেসব অঙ্ক মনে রাখলে আখেরে লাভই হতো।