Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও দূষণ কমেনি মেজিয়া-বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলে

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও মেজিয়া-বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলে দূষণ কমেনি। স্থানীয়রা সমস্যার সমাধানে সরকারের পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও দূষণ কমেনি মেজিয়া-বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলে
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হলেও মেজিয়া-বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলে দূষণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। দূষণের জেরে শিল্পাঞ্চলবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। কলকারখানার ছাই ও ধোঁয়ায় এই গরমে করুণ অবস্থা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার স্পঞ্জ আয়রন কারখানার সিংহভাগই দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধিনিষেধকে তোয়াক্কা করে না। তৃণমূল জমানায় বিষয়টি নিয়ে বিজেপি সহ বিরোধীরা বারবার বিষয়টি সরব হয়েছে। রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সমস্যা মিটবে বলে অনেকেই আশা করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বড়জোড়ার পদ্ম বিধায়ক বিল্বেশ্বর সিনহা। বিধায়ক বলেন, মেজিয়া-বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলকে নতুনভাবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমাদের সরকার রাজ্যে মাঝারি ও বড় শিল্পস্থাপনে উদ্যোগী হয়েছে। সাধারণ মানুষের সমস্যা হয়, এমন কোনো কাজ মেনে নেওয়া যাবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণ সরকারিভাবে যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা দেখব। প্রয়োজনে কারখানা মালিকদের সঙ্গেও আলোচনা করব।   

Advertisement

হাটআশুরিয়া অঞ্চলের হরিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা বিধান ঘোষ, ঘুটগোড়িয়ার বাসিন্দা মনোজ সরকার বলেন, এলাকার কলকারখানা থেকে সৃষ্ট দূষণের জেরে আমাদের নাজেহাল অবস্থা হয়েছে। কারখানার ছাই বাড়িঘরের ছাদে, আঙিনায়, চাষের খেত, খেলার মাঠে, পুকুরের জলে পুরু আস্তরণ পড়ে গিয়েছে। অবিলম্বে সমস্যার সমাধান করতে হবে। 
বড়জোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, জনপ্রতিনিধি থাকাকালীন কারখানার দূষণ রোধে অনেক চেষ্টা করেছিলাম। সরকারের মাধ্যমে বেশকিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। তারমধ্যে কারখানার মেশিন ও চিমনিতে দূষণরোধক যন্ত্র লাগানো অন্যতম। তবে সব কাজ করে উঠতে পারিনি। নতুন সরকার ও নবনির্বাচিত বিধায়কের কাছে পুরোপুরি দূষণ রোধের আবেদন জানাচ্ছি।   
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ও মেজিয়া-বড়জোড়ায় শিল্পতালুক রয়েছে। মেজিয়া-বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলে বেশি স্পঞ্জ আরয়ন কারখানা রয়েছে। মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ ছোটো বড় মিলিয়ে শতাধিক কলকারখানা রয়েছে। অন্যান্য কারখানার তুলনায় স্পঞ্জ আয়রন কারখানা বেশি দূষণ ছড়ায়। বড়জোড়ার হাটআশুরিয়া ও ঘুটগোড়িয়া অঞ্চলে বেশি কলকারাখানা রয়েছে। গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের একাংশেও কিছু কলকারখানা রয়েছে। দূষণের জেরে ওই ব্লকের লটিয়াবনী ও নিত্যানন্দপুর অঞ্চলের বাঁকদহ, জামগাড়ি, হদলবনী, রাধাকৃষ্ণপুর সহ প্রায় ২০টি গ্রামের কয়েকশো বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওইসব জমিতে আর চাষ হয় না। মেজিয়া ব্লকেও স্পঞ্জ আয়রন কারখানা, ফেরো অ্যালয় তথা শঙ্কর ধাতু তৈরির কারখানা থেকে এলাকায় দূষণ ছড়িয়ে পড়ে। দিনদিন এলাকার জল, বায়ু ও মাটি দূষিত হয়ে পড়ছে। সেখানকার বাসিন্দারাও দূষণে জেরবার হয়ে রয়েছেন। অবিলম্বে দূষণ নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গোটা শিল্পাঞ্চল সরব হয়েছে।  ধোঁয়ায় মুখ ঢেকেছে বড়জোড়া শিল্পাঞ্চল। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ