নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: চিকিৎসার প্রয়োজনে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি করা রাত্রিনিবাস ফাঁকাই থাকছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর পরিবারের সদস্যরা ট্রমা কেয়ারের সামনে মেঝেতে রাত কাটাচ্ছেন। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা একইভাবে রাতের পর রাত কাটাচ্ছেন তাঁরা। যদিও কয়েক কদম দূরে থাকা রাত্রিনিবাসে যেতে চরম অনীহা রয়েছে রোগীর পরিবারের সদস্যদের। বারবার রোগীর পরিবারের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো ফল মেলেনি বলে দাবি মেডিকেল কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালের সামনে ভিড় করে রাত কাটালে রোগীদের যাওয়া-আসার পথেও সমস্যা হয়ে থাকে। তাই পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করা হলেও কেউ কথা শোনেন না বলে আক্ষেপ মেডিকেল কলেজের আধিকারিকদের। আগামীতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, বহুবার রোগীর পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করা হলেও কেউ কথা শোনেন না। আমরা রীতিমতো মাইক ব্যবহার করে তাঁদের জানিয়েছি। তারপরও কাজ হয়নি। এবারে আমরা কড়া পদক্ষেপ নেব।
মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে রোগী ও তাঁদের পরিবারের রাত্রিযাপনের জন্য ভালো ব্যবস্থার দাবি ছিল। তৃণমূল জমানাতেই ঘটা করে ট্রমা ও এমারজেন্সি কেয়ার বিল্ডিংয়ের খুব কাছে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা করা হয়। সুলভ মূল্যে সেখানে রোগীর পরিবারের সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতরে হলেও সেই রাত্রিনিবাসটি দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে ইংলিশবাজার পুরসভা। মাত্র ৫০ টাকার পরিবর্তে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্রুত পানীয় জল, স্বচ্ছ শৌচাগার, ২৪ ঘণ্টা জলের ব্যবস্থা রয়েছে ওই নিবাসে। এত সুবিধার পরও সাধারণ মানুষ সেখানে থাকতে ইচ্ছুক নন। বেশিরভাগ সময় ট্রমা কেয়ারের সামনে প্লাস্টিক বা মাদুর পেতেই রাত কাটিয়ে দেন তাঁরা। রাত্রিযাপনের বহুতলটি কার্যত ফাঁকাই পড়ে থাকে। রোগীর আত্মীয়রা কেন রাত্রিনিবাসে থাকছেন না? এবিষয়ে এক রোগীর আত্মীয় শেখ ইসমাইল বলেন, ওয়ার্ড থেকে রাত্রিনিবাস একটু দূরে। ওয়ার্ডের কাছে থাকলে আমাদের সুবিধা হয়।
যেহেতু ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়েই জরুরি বিভাগ রয়েছে, তাই আচমকা রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে সমস্যায় পড়ে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। বারবার সচেতন করেও লাভের লাভ কিছু হয়নি। ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, মানুষের থাকার সমস্ত ব্যবস্থা সেখানে রয়েছে। তবুও মানুষ আসেন না। না থাকতে চাইলে আমাদেরও কিছু করার নেই।