Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ, শিল্পাঞ্চলের পানীয় জল সমস্যা সেই তিমিরেই

কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ, শিল্পাঞ্চলের পানীয় জল সমস্যা সেই তিমিরেই
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: সালটা ২০১৬। বিধানসভা নির্বাচনে কুলটিতে জনসভা করতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভোটে জিতলেই কুলটিতে জলপ্রকল্প হবে। কথা রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে আসানসোল পুরসভা প্রায় ৪০০কোটি টাকার জলপ্রকল্প পেয়েছিল। কুলটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। জলসঙ্কট মেটাতেই শুরু হয় কাজ। তবে, ১০ বছর পরও কুলটিতে জলের অভাব ঘোচেনি। কারণ জলচুরি, সমস্ত এলাকায় জল না পৌঁছনো সহ একাধিক সমস্যা রয়েছে। 

Advertisement

এখানেই অর্থবরাদ্দ বন্ধ হয়নি। অম্রুত-২ প্রকল্প পায় আসানসোল পুরসভা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম ধাপে ২৫৬ কোটি টাকা, পরবর্তী ধাপে ১৬৯ কোটি টাকা ও শেষ ধাপে এসেছে ২৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট অর্থ বরাদ্দ হয় ৬৯৫ কোটি টাকা। জামুড়িয়া, কুলটি ও আসানসোলের জন্য পৃথক প্রকল্প ধরা হয়েছে। ডামরা-১, ডামরা-২, কালাঝরিয়া, ভুতাবুড়ি, দিসেরগড় পাঁচটি নতুন ইনফিলট্রেশন গ্যালারি গড়া হয় দামোদরের উপর। যাতে নদীগর্ভ থেকে জল পাওয়া যায়। সেখান থেকে বিভিন্ন বুস্টিং স্টেশনের মাধ্যমে জল যাবে বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভারে। তা থেকে বিভিন্ন রাইসিং মেনলাইন দিয়ে জল তোলা হবে ওভারহেড ট্যাঙ্কে। ২০২১ সালে এই প্রকল্প আসে। পুরসভা না মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট(এমইডি) কে করবে প্রকল্প তা সিদ্ধান্ত নিতেই কেটে গিয়েছে এক বছর। ২০২২ সালে সিদ্ধান্ত হয়, পুরসভা নয় কাজ করবে এমইডি। এবছর জুন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। প্রতিদিন ৩৯মিলিয়ন গ্যালন জল সরবরাহ করার ক্ষমতা ছিল পুরসভার। প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে তা বেড়ে হবে ৭৯ মিলিয়ন গ্যালনে। আগামী দিনে জনসংখ্যা বাড়লে চাহিদা অনুযায়ী করা হয়েছে এই প্রকল্প। এবার তীব্র গরমে শহরজুড়ে জলের হাহাকার দেখে প্রশ্ন উঠছে, কবে সম্পন্ন হবে প্রকল্পের কাজ। পুরসভার অন্দরে ঢুঁ মারলেই বোঝা যায়, প্রকল্পের অনেক অংশই এখনও বিশবাঁও জলে। বেশিরভাগ জায়গাতেই বহু কাজ বাকি। অভিযোগ এমনও রয়েছে, ইনফিলট্রেশন গ্যালারিতে যে গভীরতা করার কথা ছিল তা হয়নি। এমনকী, অম্রুত-১ জল প্রকল্পে জামুড়িয়ায় যেসব ওভারহেড ট্যাঙ্কগুলি গড়ে তোলা হয়েছিল, তাও চালু করা যায়নি। জলপ্রকল্পের এই টালবাহানা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। গোদের উপর বিষফোড়ার মতোই জল প্রকল্পের সামনে বিপুল পরিমাণ বালি তোলার অভিযোগ রয়েছে। এর জেরে জলপ্রকল্পের এলাকায় থাকছে না প্রয়োজনীয় বালির স্তর। পর্যাপ্ত বালির স্তর না থাকলে নদী থেকে পর্যাপ্ত জল তোলা যায় না।
শুধু পুরসভা নয়, শিল্পাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরও একাধিক নতুন জলপ্রকল্প গড়ছে। মাইথন থেকে জল এনে রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, পাণ্ডবেশ্বর ও অণ্ডাল ব্লকে সরবরাহ করার কথা। সেই প্রকল্প কবে শেষ হবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আসানসোল পুরসভার মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, জল প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, জেলাশাসক পুরসভা ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরকে জল প্রকল্পগুলি দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। (শেষ)

সম্পর্কিত সংবাদ