সংবাদদাতা, মানকর: মধ্যরাত থেকে প্রসব যন্ত্রণা। বারবার ফোন করেও মেলেনি মাতৃযান বা নিশ্চয়যান অ্যাম্বুলেন্স। শুক্রবার সকালে ভাড়া করা গাড়িতে হাসপাতালে যাওয়ার পথেই সন্তান প্রসব করলেন এক প্রসূতি! এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল কাঁকসা।
সংবাদদাতা, মানকর: মধ্যরাত থেকে প্রসব যন্ত্রণা। বারবার ফোন করেও মেলেনি মাতৃযান বা নিশ্চয়যান অ্যাম্বুলেন্স। শুক্রবার সকালে ভাড়া করা গাড়িতে হাসপাতালে যাওয়ার পথেই সন্তান প্রসব করলেন এক প্রসূতি! এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল কাঁকসা।
জানা গিয়েছে, প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ওই প্রসূতি মা। তাঁকে পানাগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন পরিবারের লোকেরা। সেই মতো একাধিকবার নিশ্চয়যানে ফোন করা হলেও সকাল পর্যন্ত কারও পাত্তা নেই। অগত্যা গ্রামেরই একটি গাড়ি ভাড়া করে মহিলাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অত্যধিক দেরির কারণে যাওয়ার পথেই প্রসব হয়ে যায় তাঁর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে। তবে স্বস্তির যেটা, তা হল প্রসূতি মা ও সদ্যোজাত দু’জনেই সুস্থ। ওই মহিলা ফুটফুটে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। মা-ছেলে আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ত্রিলোকচন্দ্রপুরের বাসিন্দা আকাশ বাগদীর স্ত্রী পূজা বাগদীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা পানাগড় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার জন্য যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনো লাভ হয়নি। পরিবারের এক সদস্যা চম্পা বাগদি বলেন, ‘রাত দুটো থেকে ফোন করা হয়েছে। ফোন ধরেই বলছে, পুজোর জন্য অ্যাম্বুলেন্স ধুয়ে দিয়েছি। শেষে অন্য গাড়ি ভাড়া করি। কিন্তু, গাড়িতেই প্রসব হয়ে গিয়েছে। গর্ভবতী মহিলা ও প্রসূতিদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা থাকার পরেও জরুরি মুহূর্তে সেই পরিষেবা কেন মিলল না? কেন টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে আসতে হল?’ পরিবারের অন্য সদস্যদের অভিযোগ, ত্রিলোকচন্দ্রপুর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দূরত্ব মাত্র সাত কিলোমিটার। তারপরও জরুরি মুহূর্তে নিশ্চয়যান পাওয়া গেল না! শুধু তাই নয়, সরকারি পরিষেবার জন্য হাজার টাকা দাবিও করা হয়েছিল।
প্রসূতিকে হাসপাতালমুখী করে প্রসূতি এবং সদ্যোজাতর মৃত্যু ঠেকাতে নিশ্চয়যান প্রকল্প চালু করে জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশন। কেন্দ্রের এই প্রকল্পে টোল ফ্রি ১০২ নম্বরে ফোন করলেই ২৪ ঘণ্টাই সহজে অ্যাম্বুলেন্স মেলার কথা। কিন্তু, ক্ষেত্রে তা হল না কেন, সেই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পূজার পরিবার। তাদের প্রশ্ন, গাড়িতে প্রসবের সময় কিছু হয়ে গেলে তার দায় কে নিত? ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভদীপ সেন বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। প্রসূতির স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেস নেতা পূরব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তৃণমূল আমলে স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। শুধুমাত্র ভবনগুলিতে নীল সাদা রঙ করা হতো। বিজেপি সরকারে আসার পরে সেই রং পরিবর্তন করতেই ব্যস্ত। পরিষেবার দিকে নজর নেই।’ সিপিএমের এক নেতাও একই সুরে বলেছেন, ‘বিজেপির আমলে স্বাস্থ্য পরিষেবার কোনো উন্নতি হয়নি। ওরা বাংলায় বিভেদ সৃষ্টি করতে বেশি তৎপর।’ বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, ‘এই আচরণ কখনই কাম্য নয়। অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’