


রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: মাধ্যমিকে বাঁকুড়ার জয়জয়কার হলেও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে জেলাবাসী হতাশ হয়েছে। জেলার ছাত্রছাত্রীরা মেধা তালিকায় সেভাবে দাগ কাটতে পারেননি। বঙ্গ বিদ্যালয়ের প্রত্যুষা নন্দী দশম স্থানাধিকারী হয়ে কার্যত টিমটিম করে জেলার সাফল্যের বাতি জ্বালিয়েছেন। মেধাতালিকায় ঠাঁই না পাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিকে জেলায় পাশের হারও যথেষ্ট হতাশাব্যঞ্জক হয়েছে। বাঁকুড়ায় পাশের শতকরা হার ৮৭.৯১শতাংশ। যা রাজ্যের গড় পাশের হারের থেকে অনেকটাই কম। পাশের হারের ক্ষেত্রে গতবারের থেকেও লালমাটির জেলার অবনমন ঘটেছে বলে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
বাঁকুড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পীযূষকান্তি বেরা বলেন, গতবারের থেকেও এবার উচ্চ মাধ্যমিকে আমাদের ফল খারাপ হয়েছে। শিক্ষকের অভাবেও ফলাফলের উপর প্রভাব পড়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বহু স্কুলে বিষয়ভিত্তিক পড়ানোর লোক নেই। ফলে ছাত্রছাত্রীরা প্রাইভেট টিউটরের কাছে অথবা বাড়িতে পড়ে পরীক্ষায় বসছে। সেই কারণে ফল খারাপ হচ্ছে। আগামী দিনে সুষ্ঠুভাবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত যথাযথ হবে। তখন ফল ভালো হবে বলে আশা করছি।
বাঁকুড়া মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাধনচন্দ্র ঘোষ বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে শতকরা ৯৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রথম তিন স্থানেই ছাত্রীরা রয়েছে। তবে জেলার সামগ্রিক ফলাফলে আমরা হতাশ হয়েছি। উচ্চ মাধ্যমিকে ক্রমেই জেলার সাফল্য তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। ছাত্রছাত্রীদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া এই অবনমনের প্রধান কারণ বলে আমার মনে হয়। এবারের মেধাতালিকায় রামকৃষ্ণ মিশনের জয়জয়কার হয়েছে। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা মোবাইলমুক্ত পরিবেশে পঠনপাঠন করেছে। ফলে তারা সাফল্যের শীর্ষে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে কম উপস্থিত থাকে। প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসেও আসে না। তারফলে হাতেকলমে শিক্ষার ঘাটতি থেকে যায়। এই বিষয়টিও মফস্সলের সরকার পোষিত স্কুলগুলির ব্যর্থ হওয়ার অন্যমত কারণ।
উল্লেখ্য, বছর পাঁচেক আগেও বাঁকুড়ার ছাত্রছাত্রীরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে সমানতালে সাফল্য পেত। মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় ঠাঁই পাওয়া পরীক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম দশেও জায়গা পেতেন। জীবনের দুই বড় পরীক্ষায় প্রথম সহ শুরুর দিকে উপর্যুপুরি র্যাঙ্ক করে অনেকেই নজির সৃষ্টি করেছিলেন। তবে করোনার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে যায়। গত কয়েক বছরে নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় স্কুলগুলি ধুঁকছে। ‘গোদের উপর বিষফোড়ার’ মতো নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শিক্ষকদের চাকরি চলে যাওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ফলে যোগ্য শিক্ষকদের অনেকেই গত এক বছর ধরে সেভাবে স্কুলে সময় দিতে পারেননি। ফলে আখেরে ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হয়েছেন। হাতে অ্যানড্রয়েড সেট ও অফুরন্ত ইন্টারনেটে ‘ডাটা’ পেয়ে পড়াশোনার থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাত্রছাত্রীদের বড় অংশ বেশি সময় ব্যয় করেছে বলেও অভিভাবকরা স্বীকার করে নিয়েছেন। সবমিলিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ফল খারাপ হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।