সংবাদদাতা, কাঁথি: জীর্ণ, পুরনো অ্যাসবেসটসের চালার ভবন, ভগ্ন রান্নাঘর, সামনে আগাছার জঙ্গল। সাবমার্সিবল পাম্পও অকেজো। দুর্দশার এই ছবি কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের ধোবাবেড়িয়া পঞ্চায়েতের ধরাধরপুর মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের। স্কুলে ছাত্রসংখ্যা বাড়ানোর জন্য ‘প্যাকেজ’ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তা সত্ত্বেও পরিকাঠামোর সমস্যায় এখানে ছাত্রসংখ্যা খুবই কম। একসময় যেখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা শতাধিক ছিল, সেখানে এখন মাত্র ১৮জনকে নিয়ে চলছে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র। অবিলম্বে এই শিক্ষাকেন্দ্রের হাল ফেরানোর দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা।
২০০৪ সালে দু’জন শিক্ষককে নিয়ে এই শিক্ষাকেন্দ্রের পথচলা শুরু হয়। পরের বছর আরও দু’জন এবং ২০০৭সালে দু’জন শিক্ষক নিযুক্ত হন। ছ’জন শিক্ষক থাকায় ছাত্রছাত্রীও বাড়তে থাকে। ২০১২ সাল পর্যন্ত এই শিক্ষাকেন্দ্র ভালভাবে চলত। সেইসময় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দেড়শো পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে এরইমাঝে ২০১০সালে একজন শিক্ষক অবসর নেন। ২০১৩ সাল থেকে পরপর তিন বছর শিক্ষকরা এক এক করে অবসর নেন। ২০১৬শিক্ষাবর্ষ থেকে ১০বছর ধরে ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছেন মধুসূদন আচার্য ও শশীশেখর মিশ্র। মধুসূদনবাবু প্রধান শিক্ষক। ১৮জনের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে ছ’জন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনজন, সপ্তম শ্রেণিতে তিনজন এবং অষ্টম শ্রেণিতে ছ’জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। প্রত্যেকেই সংখ্যালঘু পরিবারের। সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, পুরনো ভবনে তিনটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে দু’টিতে কোনোরকমে ক্লাস চলছে। সেই ভবনে প্লাস্টার পর্যন্ত হয়নি। পর্যাপ্ত বেঞ্চ নেই। বছর দু’য়েক আগে ঝড়ে রান্নাঘরের চালা উড়ে যায়। তারপর আর রান্নাঘরটি মেরামত করা হয়নি। একটি শ্রেণিকক্ষ কিচেন কাম ডাইনিং হল বানানো হয়েছে। বছরখানেক আগে সাবমার্সিবল পাম্পও অকেজো হয়ে যায়। তা মেরামত করা হয়নি। জ্যারিকেনে জল কিনে পানীয় জলের চাহিদা মেটানো এবং মিডডে মিল চালাতে হয় শিক্ষকদের। কয়েক বছর আগে একটি অতিরিক্ত ভবন তৈরি হয়েছে। সেখানে একটি রুমে অফিসঘর চলে এবং অন্য ছাত্রছাত্রীরা বসে। দু’টি শৌচালয়ই ভাঙা। নতুন একটি অস্থায়ী শৌচালয় ছাত্রছাত্রীদের ভরসা। খালের পাশে থাকা শিক্ষাকেন্দ্রের সামনে আগাছার জঙ্গল হয়ে রয়েছে। শিক্ষাকেন্দ্রের এই দুর্দশার কারণে বছরদুয়েক আগে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে আট-নয়ে এসে ঠেকেছিল। ফের গত শিক্ষাবর্ষ থেকে একটু বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হলে ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, সরস্বতী পুজোর চাঁদা-কোনোকিছুই দিতে হয় না। বরং ভর্তি হলে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে। ছাত্রসংখ্যা বাড়ানোর জন্য ২০২৫শিক্ষাবর্ষ থেকে এরকম প্যাকেজ ঘোষণা করেছে শিক্ষাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। চারদিকে চারটি হাইস্কুল রয়েছে। তার উপর পরিকাঠামোগত অভাব থাকায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে।
দুই শিক্ষক বলেন, আমরা এই শিক্ষাকেন্দ্রটি টিকিয়ে রাখা এবং ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রতিটি বিষয় প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ওয়েস্টবেঙ্গল এমএসকে অ্যান্ড এসএসকে টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি বিকাশকুমার বারিক বলেন, ২০১১সাল থেকেই মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র এবং শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে নিয়োগ বন্ধ। বর্তমান সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আমরা নতুনভাবে আবেদন জানিয়েছি। বিডিও অরুণ পাত্র বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখব। সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে।-নিজস্ব চিত্র