Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আপত্তি সত্ত্বেও ঠাকুরনগরের নাটমন্দিরে চলছে ধর্মীয় শংসাপত্র দেওয়ার ক্যাম্প

আপত্তি সত্ত্বেও ঠাকুরনগরের নাটমন্দিরে চলছে ধর্মীয় শংসাপত্র দেওয়ার ক্যাম্প
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: নাটমন্দির ভক্তদের যে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার জন্য। কিন্তু সেখানে ‘স্থায়ী’ভাবে চলছে মতুয়া কার্ড ও ধর্মীয় পরিচয় দেওয়ার ক্যাম্প। এ নিয়ে গর্জে উঠেছেন বিজেপি বিধায়ক তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের মহাসঙ্ঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুর। কিন্তু তাঁর ‘লম্ফঝম্ফ’সার! বারুণী মেলা পর্বের মতোই সোমবারও সেখানে চলল ক্যাম্প। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলে সে ক্যাম্প। পাশাপাশি সুব্রত ঠাকুরের বাড়ির সামনেও ছিল মতুয়াদের ভিড়। মানুষ লাইন দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়ে শংসাপত্র সংগ্রহ করেন টাকার বিনিময়ে। দুই ক্যাম্পের মাঝে একপ্রকার দ্বীপের মতো হয়ে থাকল সাংসদ তথা তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুরের বাড়ি।

Advertisement

ঠাকুরনগর স্টেশন থেকে মিনিট ১৫ হাঁটা পথ পেরলেই ঠাকুরবাড়ি। রাস্তার শেষভাগে নাটমন্দির। সেখানে মতুয়া ভক্তরা বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করেন। সেই নাটমন্দিরই এখন ‘দখল’ হয়ে গিয়েছে! সেখানে চলছে মতুয়া কার্ড এবং ধর্মীয় শংসাপত্র সংগ্রহের ভিড়। রবিবার দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব নিয়ে তোলপাড় হওয়ার পরের দিন সোমবারেও ওই নাট মন্দিরে দিব্যি চলছে ক্যাম্প। ক্যাম্পের দায়িত্বে রয়েছেন বড়মা বীণাপাণি ঠাকুরের ছোট নাতি তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। নাট মন্দিরে ঢুঁ মারতেই দেখা গেল, পাতা রয়েছে চেয়ার,টেবিল, রয়েছে কম্পিউটারও। শান্তনুর ঘনিষ্ঠরা সেখানে বসে। টেবিলের সামনে হাতে কাগজ নিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মতুয়ারা। নাটমন্দির জুড়ে কয়েকশো মানুষের ভিড়। কেউ নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথির জেরক্স করে এনেছেন। আবার কেউ নথি জমা দিয়ে ধর্মীয় শংসাপত্র হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় বসে। নাটমন্দিরে ভিতর ও বাইরের দেওয়ালে টাঙানো শান্তনু ঠাকুরের ছবি দেওয়া ফ্লেক্স। মতুয়া কার্ড ও ধর্মীয় শংসাপত্র সংগ্রহের জন্য ঘোষণা হচ্ছে মাইকেও। পাশাপাশা শান্তনুর স্ত্রী সোমাদেবী মানুষের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন বলেও ফলাও করে ঘোষণা করা হচ্ছিল মাইকে।
নাটমন্দির ছাড়িয়ে হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরকে ডানদিকে রেখে কিছুটা এগলেই ফের ভিড়ের ছবি। সেখানে চলছে গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর পরিচালিত ক্যাম্প। পাশেই বাড়ি সুব্রতর। বৃষ্টির জল থেকে রেহাই দিতে টাঙানো হয়েছে ত্রিপল। রয়েছে পর্যাপ্ত ভিড়। ক্যাম্পের চারদিকে সুব্রতর ছবি টাঙানো। জেলা ছাড়িয়ে ভিন জেলা থেকেও মতুয়ারা দলে দলে আসছেন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে মতুয়া কার্ড এবং ধর্মীয়  শংসাপত্র সংগ্রহ করতে। বারুণী মেলার মাঠের ধারে ধারে গজিয়ে উঠেছে রকমারি খাবারের দোকান,চায়ের স্টল থেকে জেরক্সের দোকান। বেচাকেনাও চলছে বেশ। গোবরডাঙার সুঁটিয়ার ষাটোর্ধ্ব আনন্দ দাস ঠাকুরনগরের ক্যাম্পে হাতে আধারকার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বললেন, ঠাকুরের বাড়িতে ক্যাম্পের কথা জেনেই এসেছি। মতুয়া কার্ড এবং ধর্মীয় শংসাপত্র সংগ্রহ করব। হরিণঘাটার টুম্পা বিশ্বাস ও তাঁর শ্বাশুড়ি প্রতিমাদেবী সুব্রতর ক্যাম্পে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের কথায়, এসআইআর চালু হবে। তাই আগেভাগে এখানে এসে ক্যাম্পে নাম তোলাচ্ছি। এনিয়ে সুব্রত বলেন,মতুয়া কার্ড সারাবছর ধরে হয়। এসআইআর চালুর জন্য ভিড় বেড়েছে। তবে নাটমন্দিরের ক্যাম্পের বিরুদ্ধে আমরা পথে নামব। এদিকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, শান্তনু ক্ষমতার জোরে মতুয়াদের বিভ্রান্ত করতেই এসব করছেন। নাটমন্দির দখল করে ক্যাম্পের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করব মতুয়া ভক্তদের নিয়ে। পাগল, গোঁসাই ও দলপতিরা শান্তনুর কাজের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। ক্রিমিনালদের নিয়ে এই ক্যাম্প করছে। তবে শান্তনুর পাশে দাঁড়িয়েছেন বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। তিনি বলেন, নাটমন্দিরে সিএএ সহযোগিতা শিবির করার অনুমতি মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান সেবায়েত হিসাবে আমিই দিয়েছি। কোনও মতপার্থক্য থাকলে, পরিবারের মধ্যে আলোচনা করে তা মিটিয়ে নেওয়া যেত। সুব্রত ও তাঁর স্ত্রী ছবিরানির আচরণকে সমর্থন করছি না। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ