


উজ্জ্বল পাল ও দূর্বাদল চন্দ্র: ওন্দা ও বাঘমুণ্ডি: প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছোটালেও বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার জনসভা থেকে কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে পারলেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার তিনি ওন্দার রামসাগর, ছাতনা এবং পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডিতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করেন। সেখান থেকে একের পর এক প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছোটান। যুবক-যুবতীদের জন্য ভাতা থেকে রাজ্যের আলু বাইরে পাঠানো, নারী সুরক্ষা, চাষিদের ফসলের ন্যায্য দাম, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্নীতি দমন সহ একগুচ্ছ বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু, দুই জেলায় একাধিক বিধায়ক এবং দু’জন দলীয় সাংসদ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে পারলেন না।
এদিন রামসাগরের সভায় উপস্থিত ছিলেন ওন্দা, বিষ্ণুপুর কোতুলপুরের বিজেপি প্রার্থী অমরনাথ শাখা, শুক্লা চট্টোপাধ্যায় ও লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার। ছাতনার সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া, ছাতনা ও শালতোড়ার বিজেপি প্রার্থী যথাক্রমে নীলাদ্রি শেখর দানা, সত্যানারায়ণ মুখোপাধ্যায় ও চন্দনা বাউরি। দু’টি সভাতেই শাহ আলুর দামের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আলুর দাম কেজি প্রতি ২০টাকার বেশি পাওয়া উচিত। কিন্তু, চাষিরা দু’টাকাও পাচ্ছেন না। এরাজ্যের মিষ্টি আলু ঝাড়খণ্ড বিহারের মানুষ খেতে পছন্দ করলেও দিদি তা পাঠানো বন্ধ করে দেন। আমরা ক্ষমতায় এলেই বিহার, ঝাড়খণ্ড সহ গোটা ভারতে পশ্চিমবঙ্গের আলু পাঠাব।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কথা শুনে কটাক্ষ করছেন চাষিরা। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার চাষিদের পাশে দাঁড়াতে চাইলে আগে সারের দামে লাগাম পরাক। আলু চাষের মূল খরচ হয় সারে। সারের ও বীজের দাম কম হলেই উৎপাদন খরচ কমে যাবে। তখন আলুর দাম কম হলেও চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন নির্বাচনি জনসভায় মহিলা ও বেকারদের ৩০০০ টাকা এবং বিধবা ও প্রবীণদের ২০০০ টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কুইন্টাল প্রতি ধানের দাম ৩১০০টাকা করার কথা বলেন। গর্ভবতীদের জন্য ২১হাজার টাকা সহ ঢালাও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেন। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এটা প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার মতোই জুমলা ছাড়া কিছুই নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনি জনসভায় যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন, তার সবকটি প্রকল্পই বর্তমানে এই রাজ্যে চালু আছে। নতুন কিছুই বলেননি। শুধু বেশি টাকা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। বিজেপি আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভিক্ষা বলত। এখন নির্বাচনি জনসভায় এসে তারাও একই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তফাৎ একটাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিলে কথা রাখেন, আর বিজেপি ভাঁওতা দেয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত বলেন, ২০২১ সালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনি প্রচারে এসে একইভাবে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু, ভোট নেওয়ার পর বিজেপি বিধায়করা লাইট বসানো ছাড়া কিছুই করেননি। মানুষ বারবার ঠকে না।