নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অনুরোধ মেনে আসন সংখ্যা বদল হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এখনো সংসদে লোকসভায় ‘এনসিপিআই’য়ের সাংসদ হিসাবে স্বীকৃতি দিলেন না লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। মেলেনি বিদ্রোহী তৃণমূলীদের আলাদা বসার ঘরও। তাই অস্বস্তিতে রয়েছেন সুদীপ-কাকলিরা। আজ এনডিএ’র সংসদীয় দলের বৈঠকেও তাঁদের ডাকা হয়নি। তাই বিজেপির উপর চাপ বাড়াতে আগামী কাল বুধবার দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসছে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। এখনো পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে দৌত্য করছেন শুভেন্দু-ভূপেন্দ্র যাদব। আজ সকালে ২১ জুলাই বাংলার বাম আমলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো ১৩ জনের প্রতি শ্রদ্ধা-স্মরণে রাজঘাটে যাবেন এনসিপিআইয়ের সাংসদরা।
সরকারের শরিক বলে নিজেদের দাবি করলেও সাংসদ হিসাবে সরকারকে প্রশ্ন করতে পিছপা হননি মালা রায় এবং দীপক অধিকারী (দেব)। লিখিতভাবে সরকারের কাছে মালা রায়ের প্রশ্ন, গত এক দশকে বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে কত ঋণ নিয়েছে মোদি সরকার? জবাবে অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানিয়েছেন, ৩০ হাজার ৭১৪ মিলিয়ন ডলার নেওয়া হয়েছে ঋণ। একইভাবে ইয়েনে নেওয়া হয়েছে ৪,০০,৫৭৯ মিলিয়ন। অন্যদিকে, দেবের প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে কত নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের? যদিও জবাবে শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। গত ১২ বছরে কোথায় কী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়েছে, তার ফিরিস্তি দিয়েছেন মাত্র।
আসন সংখ্যা বদলে দেওয়ায় সোমবার লোকসভায় প্রথম সারিতে বসতে দেখা যায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আগে যেখানে বসতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পিছনের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের আটজনকে। এ নিয়ে অবশ্য স্পিকারের কাছে নালিশ করতে নারাজ সৌগতবাবু। বলেন, ‘সামনে বসলাম, নাকি পিছনে, কিছু এসে যায় না। কী বললাম, বলছি, সেটাই আসল ব্যাপার।’
সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্রদের সঙ্গে কাকলি ঘোষদস্তিদার, জুন মালিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়দের দেখা হলেও পরষ্পর না দেখার ভান করে এড়িয়ে গেলেন। মাস কয়েক আগেও যাঁরা ছিলেন সহমর্মী। যখন বিরোধীদের প্রতিবাদে ওয়েলে নেমে স্লোগান তুলছেন মহুয়ারা। চুপটি করে বসে সুদীপবাবুরা। এনসিপিআইয়ের কয়েকজন তো একান্তে বলেই ফেললেন, ‘আমাদের এখন কিছু করার নেই। চুপ করে বসে থাকা ছাড়া।’