সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বাড়ির গ্যারেজে সাজানো দামি গাড়ি। ট্যাক্স না দিয়েই রাস্তায় ছোটানো হচ্ছে গাড়ি। অনেকে আবার দামি বাইক কিনেও ট্যাক্স দিচ্ছেন না। ট্রাক্টর মালিকদের অনেকেই কবে ট্যাক্স দিয়েছেন তা তাঁদের মনে নেই। কিন্তু এবার আর রক্ষে নেই। বকেয়া সমস্ত কর পরিবহণ দপ্তরকে মেটাতে হবে। ইতিমধ্যে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই ট্যাক্স জমা করতে হবে। তা নাহলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এক আধিকারিক বলেন, পরিবহণ দপ্তরের কয়েক’শ কোটি টাকার ট্যাক্স বাকি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী গাড়ির দামের ৫.৫ শতাংশ ট্যাক্স জমা করতে হয়। দামি চারচাকা কেনার পর দীর্ঘ সময়ের জন্য এককালীন ট্যাক্স দেওয়া যায়। বাইকের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম চালু রয়েছে।
পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সব থেকে বেশ ট্যাক্স বাকি রয়েছে ট্রাক্টর মালিকদের। তাঁদের অনেকেই ট্রাক্টর কেনার পর ট্যাক্স জমা করেননি। প্রতিটি জেলাতেই সেই সমস্ত ট্রাক্টর মালিকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। বকেয়া ট্যাক্সের পাশাপাশি তাদের জরিমানাও দিতে হবে। ট্রাক বা ডাম্পার মালিকদেরও নোটিস পাঠানো হচ্ছে। বাইক কেনার পর যাঁরা দীর্ঘদিন ট্যাক্স জমা করেননি, তাঁদেরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা করতে হবে। দপ্তরের আরেক আধিকারিক বলেন, নতুন বেশ কিছু নিয়ম আগামী দিনে লাগু হতে চলেছে। ধাপে ধাপে সব কিছুই অনলাইনে করা হবে। লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু হলেও দালালরাজ সম্পুর্ণ বন্ধ করা যায়নি। এবার তা করা হবে। লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম মানা হবে না। বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান জেলাগুলিতে পরিবহণ দপ্তরের বহু ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ওভারলোডিং বন্ধ করতেও পরিবহণ দপ্তরকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বালি, পাথর নিয়ে কোনও ট্রাক্টর বা ডাম্পার ধরা পড়লে মোটা টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো সুপারিশ কাজে লাগবে না। এছাড়া জেলায় কত পুরানো গাড়ি রয়েছে সেগুলিও চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। ‘আনফিট’ বাসের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে কোনো বাস যাতে রাস্তায় না চলে, তারজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তার আগে বকেয়া কর আদায়ের জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকরা। নোটিস পাওয়ার পরও কোনো দামি গাড়ির চালক ট্যাক্স না মেটালে তাঁকে জরিমানা করা হবে। তারপরও টাকা জমা না করলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। আধিকারিকদের দাবি, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গাড়ি মালিকদের অনেকেই পরিবহণ দপ্তরে ভিড় করতে শুরু করেছেন। তাঁরা আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না।