নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শহরে উদ্বেগ বানাচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। আক্রান্তের সংখ্যা এখনও নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্ষার শুরুতেই হাওড়া শহরের কমবেশি প্রতিটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ নজরে আসছে। এখন থেকেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক পরিকল্পনা নিচ্ছে হাওড়া পুরসভা। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি ডেঙ্গু সতর্কতা না মানলে আগামী দিনে জরিমানা করার পথেও হাঁটতে চলেছে পুরসভা। সোমবার শৈলেন মান্না সরণিতে একটি ডেঙ্গু সচেতনতামূলক মিছিলের আয়োজন করে পুরসভা।
২০২৩-এ হাওড়া শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মাত্রা ছাড়িয়েছিল। সেই তুলনায় গতবছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল অনেকটাই কম। গতবছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছ’মাসে শহরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন মাত্র ৪০ জন। সেই তুলনায় এবছর গত ছ’মাসে ৮০ জনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। গত কয়েকবছরে হাওড়া শহরের ১৫, ১৬, ৩৯ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডেই আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। চলতি বছরে ৫০টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই এক-দু’জন করে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্ষার শুরুতেই এই পরিস্থিতি হাওড়া পুরসভার কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া করেছে। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিচ্ছে পুরসভা।
এদিন সকালে শৈলেন মান্না সরণিতে পুরসভার তরফে আয়োজিত ডেঙ্গু বিজয় অভিযান মিছিলে অংশ নেন মুখ্য প্রশাসকসহ প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যরা। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেঙ্গু সচেতনতার অঙ্গ হিসেবে মশার একটি মডেল তৈরি করা হয়েছে। সেই মডেলটি পুর এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের সচেতন করবে। সাফাই কর্মীদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি পুরসভার র্যাপিড অ্যাকশন টিমের সদস্যরা ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকাগুলিতে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে পতঙ্গ বিশারদকেও পাঠানো হয়েছে। পুরসভার নিজস্ব ১৩০ জন স্প্রে ম্যানের পাশাপাশি এজেন্সিকে বরাত দিয়ে আরও দু’শো জন স্প্রে ম্যানকে ওয়ার্ডগুলোতে ডেঙ্গু লার্ভার কীটনাশক ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘সরকারি স্কুল-কলেজ ও আবাসনগুলিতেও সাফাইয়ের কাজ করছে পুরসভা। বাসিন্দাদের একাংশের অসচেতনতার জন্য ছাদে রাখা টব, বাড়ির এককোণে থাকা পুরনো সামগ্রী, অব্যবহৃত ট্যাঙ্কিতে বৃষ্টির জল জমছে। সেগুলি পরিষ্কার করতে সাধারণ মানুষকেই সচেতন হতে হবে।’ ডেঙ্গুপ্রবণ ওয়ার্ডগুলির যে-সমস্ত বাড়িতে মশার লার্ভার হদিশ মিলছে, সেই গৃহস্থদের নোটিস ধরাচ্ছে পুরসভা। নোটিস পাওয়ার পরেও জমা জল সরানোর ব্যবস্থা না-করলে বাড়ির মালিককে মিউনিসিপাল কোর্টে ডেকে জরিমানা করা হবে। সাফ কথা পুরসভার। যদিও হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই প্রশাসন সূত্রের দাবি। হাওড়া হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা প্রায় নেই বলে জানিয়েছেন সুপার ডাঃ নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। - নিজস্ব চিত্র