বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: সাড়ে ৭ হাজার ফুট উচ্চতায় দার্জিলিং জেলার ঘুম হিল স্টেশনে পর্যন্ত মিলল ডেঙ্গু মশার লার্ভা! ডেঙ্গু ভাইরাসের অন্যতম বাহক হল ইডিস অ্যালবোপিকটাস মশা। সেই ইডিসের লার্ভা মিলেছে ঘুমে। পাহাড়ি এলাকায় ডেঙ্গু হয় না—এই ধারণা গত কয়েকবছরের বারবার ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু বাংলায়, হিমালয়ের ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার ফুটের মতো অধিক উচ্চতার এই প্রথম ডেঙ্গু মশার লার্ভা মিলল। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের এক শীর্ষ সূত্রে এই খবর মিলেছে। ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’-এর জেরেই এতদিন প্রচলিত এই মিথ ভেঙে চুরমার হল। এমনই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। তাঁরা জানান, সামগ্রিকভাবে পাহাড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। পাহাড়েও ঘামছে মানুষ। কখনও কখনও চালাতে হচ্ছে ফ্যান। তাই সমতলের মতোই পাহাড়েও ডেঙ্গু মশার লার্ভার বাড়বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
শুধু ঘুম (৭৪০৭ ফিট) পাহাড়ই নয়, দার্জিলিং জেলার সাত হাজারি একাধিক হিল স্টেশনে এবছর মিলেছে ডেঙ্গু মশা। জেলার অন্যতম উঁচু পর্যটনস্থল লাভাতেও (৭২১৮ ফিট) এবার ডেঙ্গু মশার লার্ভা মিলেছে। বাংলা-নেপাল সীমানার অন্যতম উঁচু অফবিট ডেস্টিনেশন হল সুখিয়াপোখরি (৭১৯৮ ফিট)। সেই সুখিয়াপোখরিতেও এবার ইডিস অ্যালবোপিকটাসের লার্ভা পেয়েছেন জেলার এনটেমোলজিস্টরা।
গত কয়েকবছর ধরেই কালিম্পংয়ের মতো মাঝারি উচ্চতার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে ডেঙ্গু মশার লার্ভা মিলছিল। এবারও কালিম্পং শহর এবং আশপাশের একাধিক জায়গায় প্রচুর লার্ভা পাওয়া গিয়েছে। পর্যটনের পিক সিজনের মুখে, পাহাড়ে মশার লার্ভার বাড়বাড়ন্তের এই চরিত্রবদল রীতিমতো ঘুম কেড়েছে দপ্তরের শীর্ষমহলের। লক্ষ লক্ষ মানুষ আর ক’দিনের মধ্যেই পাহাড়মুখো হবেন। হোটেল, হোম স্টে, ট্রেকার্স হাটগুলি ভরে উঠবে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘ভাইরাসের বাহক মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের ডেঙ্গুর উপদ্রব থাকা জেলার মানুষ পাহাড়ে যাবেন। তাঁদের কেউ কেউ হয়তো না জেনেই ডেঙ্গু সংক্রমণ সঙ্গে নিয়েই বেড়াতে বেরবেন। ফলে সতর্ক না-হলে সংক্রমণ বাড়তে সময় বেশি নেবে না।’ এক সিনিয়র জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘দার্জিলিং জেলায় দীর্ঘদিনের অভ্যাস জলসংকট মোকাবিলায় বালতি, বড় বড় পাত্র এবং জারে জল জমিয়ে রাখা। লার্ভার বাড়বৃদ্ধির একেবারে অনুকূল পরিবেশ! এইসব বালতি বা জলের ট্যাঙ্কের মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলে মশার বংশবিস্তার আটকাবে। জেলার উঁচু পাহাড়ে বেড়াবার জায়গাতেও মশা তাড়াবার ক্রিম, কয়েলসহ মসকুইটো রিপেলেন্ট পর্যটকদের সঙ্গে রাখার অনুরোধ করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে ডেঙ্গু মশা ইডিস অ্যালবোপিকটাসের বাড়বাড়ন্তের অন্যতম কারণ হল বিভিন্ন গাছের (কলা, ওল, কচু প্রভৃতি) পত্রকক্ষের জমা জল। তা আটকাতে হেঁসো দিয়ে ফুটো করে দিলেই জল বেরিয়ে যাবে। একইভাবে উত্তরবঙ্গের বাঁশগাছের গোড়ায় জমা জল আটকাতে গোড়াটা চিরে দিলে জল জমার আশঙ্কা কমবে। এবছরের শুরু থেকে রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণের নিরিখে প্রথম তিনটি জেলা হল মুর্শিদাবাদ (১০৯৭), উত্তর ২৪ পরগনা (৯৬৮) এবং হুগলি (৫১৮)।