


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ‘কাটমানির টাকা ফেরত দিন।’ গোঘাটে তৃণমূল নেতা দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই মর্মে পোস্টার পড়ল। কে বা কারা ওই পোস্টার দিয়েছে তার অবশ্য উল্লেখ নেই। গোঘাটের শ্যামবাজারের দুই তৃণমূল নেতা সাহাবুদ্দিন খান ও গিয়াসুদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে গোঘাটজুড়ে চঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পোস্টারে উল্লেখ করা সমস্ত অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন দুই তৃণমূল নেতা। তাঁদের পাল্টা দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলেরই একটি অংশ বিজেপিতে ভিড়ে গিয়ে বদনাম করতে এমন পোস্টার দিয়েছে।
গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বলেন, পোস্টার দেওয়ার রাজনীতি বিজেপির সংস্কৃতিতে নেই। তবে এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলেরই অপর গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে। সরকার বদল হওয়ায় সাহস পেয়ে হয়তো পোস্টার দিয়েছে। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে অনেকেই কমবেশি দুর্নীতি করেছে। প্রশাসন সেইসব দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করবে। আমাদের সরকারের দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি। ফলে যে বা যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ প্রমাণ হবে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তৃণমূল নেতা সাহাবুদ্দিন খান বলেন, আমাদের আলু, ধান, বীজের ব্যবসা রয়েছে। সেইজন্য আমরা নিয়মিত আয়কর জমা দিই। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি তৈরি করেছি। সেই ঋণের টাকা মেটাতেই এখন হিমশিম অবস্থা। আমরা কোথাও কোনো দুর্নীতি, কাটমানির সঙ্গে যুক্ত নেই। কেউ চাইলে প্রমাণ সহ অভিযোগ করুক। কিন্তু তা না করে বদনাম করার জন্য চক্রান্ত করা হচ্ছে। তৃণমূলের অপর গোষ্ঠীর লোকেরা নব্য বিজেপি হয়ে পোস্টার দিয়েছে।
গিয়াসুদ্দিন খান বলেন, প্রধান থাকাকালীন এলাকায় উন্নয়ন করেছি। মানুষের পাশে থেকেছি। কোনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নেই। কেউ প্রমাণ করতে পারলে যা শাস্তি দেবে মাথা পেতে নেব। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে বাড়িতে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে তৃণমূলের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গোঘাট থানাতেও কোনো অভিযোগ হয়নি।
পোস্টারে লেখা হয়েছে, জনগণের আবেদনে তৃণমূলের দুর্নীতি ফাঁস করতে হবে। নইলে ছাড় নেই। শ্যামবাজার অঞ্চলে যে সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প যেমন রাস্তাঘাট, বাংলা আবাস যোজনার টাকা, গাছ কাটার টাকা, জব কার্ডের টাকা, শৌচালয়ের টাকা, যে সর্বোচ্চ মূল্যে দুর্নীতি ও কাটমানি খেয়েছেন গিয়াসুদ্দিন খান ও সাহাবুদ্দিন খান তা অবিলম্বে ফেরত দিন। সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে বেশিদিন লুকিয়ে থাকা যায় না, যাবে না।
উল্লেখ্য, সাহাবুদ্দিন খান বিগত দিনে গোঘাট ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। তাঁর ভাই গিয়াসুদ্দিন খান ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শ্যামবাজার পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্বেও ছিলেন। ভোটের আগে থেকে ওই অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতির পদও সামলেছেন। তাঁদের বৈভব, অট্টালিকা সমান বাড়ি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দারা নানা অভিযোগ করেছেন।