নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জোড়া মিছিল কলকাতায়। শুক্রবার সিপিএমের নারী সংগঠন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ডাকা মিছিলে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধল। গণেশ চন্দ্র অ্যাভেনিউ, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন মিছিলকারীরা। এদিন সকালে কংগ্রেসও একই দাবিতে কলেজ স্ট্রিট থেকে মিছিল করে।
দুপুরের দিকে ধর্মতলা থেকে সিইও দপ্তরের উদ্দেশে রওনা দেয় বাম মহিলাদের মিছিল। তরুণী থেকে অশীতিপর বৃদ্ধাকে এই মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। গণেশ চন্দ্র অ্যাভেনিউতে মিছিল ঠেকাতে পুলিশ উঁচু লোহার ব্যারিকেড করেছিল। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান মিছিলকারীরা। কয়েকজনকে ব্যারিকেডের উপরেও উঠে পড়তে দেখা যায়। সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতৃত্ব রাস্তাতেই অবস্থানে বসে পড়েন। কিছুক্ষণ বাদে সি আর অ্যাভেনিউ ধরে বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট দিয়ে সিইও দপ্তরে যাওয়ার চেষ্টা করে বামেরা। সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের সামনে প্রথম ব্যরিকেড ভেঙে ফেলেন তাঁরা। খানিক এগিয়ে আরও একটি ব্যরিকেড রাখা হয়। সেখানে মীনাক্ষীরা ফের অবস্থানে বসে পড়েন। বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট থেকে সিইও দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিতে যান মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ, রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহা, সভাপতি জাহানারা খান, আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও এসআইআরের বিরোধীতায় সুপ্রিম কোর্টে প্রথম মামলাকারী মোস্তারি বানু। মীনাক্ষী বলেন, ‘এসআইআরের আতঙ্কে কত মানুষ মারা গেল! তাহলে মনোজ আগরওয়াল, জ্ঞানেশ কুমারের নামে কেন হত্যার চেষ্টার মামলা হবে না? জ্ঞানেশ কুমারকে আইনের আওতায় আনতে হবে, পদত্যাগ করতে হবে।’ স্মারকলিপি দিয়ে এসে মোনালিসা বলেন, ‘সিইও আমাদের সময় দিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন। অতিরিক্ত সিইওকে পাঠিয়েছিলেন। আমরা জিজ্ঞেস করেছি, আপনারা বলুন, ভোটাধিকার কবে ফিরিয়ে দেবেন? ওঁরা উত্তর দিতে পারেনি।’
বাম নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি, ‘কাগজপত্র সামলে রাখুন। বাড়ি এসে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হবে। তারপর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কে না দেয়, দেখব!’ বাম ছাত্র-যুবরাও জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে গান বেঁধেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের মিছিল নেতৃত্ব দেন প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তারাও জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে সিইও দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেন।