Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুভাষচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত জিয়াগঞ্জের ভট্টপাড়ার অধিকারী বাড়ি সংরক্ষণের দাবি, স্বাধীনতা সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন, চারবার এসেছিলেন নেতাজি

নেতাজি সুভাষচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত ও পাদস্পর্শে ধন্য জিয়াগঞ্জ শহরের ভট্টপাড়ার অধিকারী বাড়ি। অধিকারী পরিবারের বর্তমান সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে কেউই জিয়াগঞ্জে থাকেন না।

সুভাষচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত জিয়াগঞ্জের ভট্টপাড়ার অধিকারী বাড়ি সংরক্ষণের দাবি, স্বাধীনতা সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন,  চারবার এসেছিলেন নেতাজি
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

আনন্দ সাহা, লালবাগ: নেতাজি সুভাষচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত ও পাদস্পর্শে ধন্য জিয়াগঞ্জ শহরের ভট্টপাড়ার অধিকারী বাড়ি। অধিকারী পরিবারের বর্তমান সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে কেউই জিয়াগঞ্জে থাকেন না। কর্মসূত্রে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকারী বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত জিয়াগঞ্জের ভট্টপাড়ার অধিকারী বাড়িটি সংরক্ষণের দাবিতে সবর হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শহরবাসী। তাদের দাবি, ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সৈনিক সুভাষচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করে সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুরসভা এগিয়ে আসুক। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার প্রশাসক বিপ্লব সরকার বলেন, ভট্টপাড়ার অধিকারী বাড়িটি দেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের কর্মকাণ্ডের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। বাড়িটি সংস্কার করে সংরক্ষণের জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে একটা চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে, অধিকারী পরিবারের বর্তমান সদস্যরা এই বিষয়ে এখনো পুরসভাকে কোনো প্রস্তাব দেননি। প্রস্তাব পেলে সংস্কার ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। 

Advertisement

১৯২৯-১৯৩৯ সালে ভাগীরথীর পূর্বপাড়ের প্রাচীন জনপদ জিয়াগঞ্জের ভট্টপাড়ার সুকুমার অধিকারীর বাড়িতে চারবার এসেছিলেন সুভাষচন্দ্র। ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী তাজবাহাদুর দুগারের হয়ে প্রচার করতে প্রথমবার জিয়াগঞ্জে এসেছিলেন। প্রাচারে এসে সুকুমার অধিকারীর বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করে রাত্রিযাপন করেন তিনি। এরপর ১৯৩৭, ১৯৩৮ এবং ১৯৩৯ সাল এই তিন বছরে তিনবার ভট্টপাড়ার অধিকারী বাড়িতে এসেছিলেন সুভাষচন্দ্র। 
অধিকারী পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের এক সদস্য বলেন, সুভাষচন্দ্র যে সময়কালে ভট্টপাড়ার বাড়িতে এসেছিলেন, তখন আমার জন্ম হয়নি। বাপ-ঠাকুরদাদের মুখ থেকে শুনে জেনেছি, সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে ঠাকুরদা সুকুমার অধিকারীর নিয়মিত চিঠি আদান-প্রদান হত। সুভাষচন্দ্র জিয়াগঞ্জে এলেই ভট্ট বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করতেন। জিয়াগঞ্জের অন্য কোথাও খাওয়ার জন্য এলাহি আয়োজন থাকলেও অধিকারী বাড়িতেই খাওয়া-দাওয়া সারতেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী মুর্শিদাবাদ জেলার অনন্য নারী মৃণালদেবী ছিলেন সুভাচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ। মৃণালদেবীর দিদি ছিলেন সুকুমার অধিকারীর স্ত্রী মণিমালাদেবী। সহযোদ্ধা মৃণালদেবীর সূত্রে মণিমালাদেবীকে দিদি বলে ডাকতেন সুচাষচন্দ্র। দিদির হাতের রান্না বিশেষ করে গলদা চিংড়ির মালাইকারী সুভাষচন্দ্র খেতে ভালবাসতেন। কাজেই সুভাষচন্দ্র জিয়াগঞ্জে এসে প্রত্যকেবার অধিকারী বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করেন। জিয়াগঞ্জের প্রবীণ বাসিন্দা মদনমোহন মণ্ডল বলেন, জিয়াগঞ্জের ভট্টপাড়ার অধিকারী বাড়ির সঙ্গে নেতাজির স্মৃতি জড়িয়ে আছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের বীর সেনাপতি নেতাজির স্মৃতিকে ধরে রাখতে বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করে সংরক্ষণ করা উচিত।
কলেজ পড়ুয়া জয়শ্রী বাগচী বলেন, নেতাজি জিয়াগঞ্জে এসেছিলেন এবং রাত্রিবাসও করেছিলেন এটা ভাবতেই নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের বরেণ্য নেতার স্মৃতি স্মারক হিসেবে বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হোক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ