Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘায় বন্ধ মেরিন করোশন রিসার্চ স্টেশনের পড়ে থাকা জায়গায় অন্য প্রকল্প গড়ার দাবি

কেন্দ্রের ভবনটির যেমন ভগ্নপ্রায় অবস্থা হয়ে গিয়েছে, তেমনই ওই ভবনের চারদিকে আগাছার জঙ্গল হয়ে গিয়েছে

দীঘায় বন্ধ মেরিন করোশন রিসার্চ স্টেশনের পড়ে থাকা জায়গায় অন্য প্রকল্প গড়ার দাবি
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: সৈকতশহর দীঘায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘মেরিন করোশন রিসার্চ স্টেশনের’ বিশাল জায়গাকে কাজে লাগিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গড়ে তোলার দাবি উঠেছে। দীর্ঘ দু’দশকের বেশি সময় ধরে এই কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। কেন্দ্রের ভবনটির যেমন ভগ্নপ্রায় অবস্থা হয়ে গিয়েছে, তেমনই ওই ভবনের চারদিকে আগাছার জঙ্গল হয়ে গিয়েছে। তাই বন্ধ হয়ে যাওয়া এই কেন্দ্রটির পুনরুজ্জীবন কিংবা নতুন করে কোনও প্রকল্প গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা থেকে শুরু করে পর্যটকরা।  

Advertisement

প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সালে দীঘা মেরিন করোশন রিসার্চ স্টেশন গড়ে ওঠে। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের আওতাভুক্ত ‘কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ­’-এর অধীনে রয়েছে। যা জামশেদপুরে অবস্থিত ‘ন্যাশনাল মেটালার্জিক্যাল ল্যাবরেটরি’ বা রাষ্ট্রীয় ধাতুকর্ম প্রয়োগশালার একটি ইউনিট  হিসেবে কাজ করত। ওল্ড দীঘায় দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার(ডিএসডিএ) পুরনো অফিসের পাশে এই কেন্দ্রটি রয়েছে। প্রায় ৭.২৫ একর জায়গার উপর কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছিল। এই কেন্দ্রের বিজ্ঞানী বা গবেষকদের কাজ ছিল, বিভিন্ন ধাতুর উপর সমুদ্রের নোনা জল ও নোনা বাতাসের ক্ষয়কারী প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা। অন্যান্য উপকূলের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে দীঘা উপকূল এলাকার লোনা জল-হাওয়ায় লোহা, তামা কিংবা অন্যান্য ধাতুগুলির কতটা ক্ষয় হয়, তা নিয়ে গবেষণা করা হতো এবং ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট পেশ করা হতো। যা উপকূলীয় অঞ্চল এবং শিল্পের ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এছাড়া অন্যান্য বিভাগীয় কাজকর্ম হতো। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে বিজ্ঞানী ডি কে বসাক ও ডি কে খান নামে দু’জন বিজ্ঞানী গবেষণা করতেন। পাশাপাশি অন্যান্য ২০জন কর্মী নানা কাজ করতেন। দুই বিজ্ঞানী অবসর নেওয়ার পর নতুন করে আর কেউ নিযুক্ত হননি। কর্মীর সংখ্যাও কমতে থাকে। নানা কারণে ধুঁকতে ধুঁকতে একদিন কেন্দ্রটি পুরো বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে পরিত্যক্তও হয়ে যায়। বর্তমানে শুধু দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এখানে একজন কেয়ারটেকার রয়েছেন। তবে সবসময় এই কেন্দ্রটির মেন গেট তালাবন্ধ অবস্থায় থাকে। পর্যটকরা কিংবা উৎসাহী মানুষজন কেউ ভিতরে ঢুকে কিছু দেখতে চাইলেও তার জো নেই।  গেট থেকে উঁকি মেরে সবকিছু দেখতে হয়। তাঁদের অনেকের কাছে এই কেন্দ্রটি কী কারণে রয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর অধরা রয়ে গিয়েছে।
দীঘার দেবেন্দ্রলাল জগবন্ধু শিক্ষাসদনের বিজ্ঞানের শিক্ষক নন্দগোপাল পাত্র বলেন, একটি কার্যকরী উদ্দেশ্য নিয়ে এই কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে দেখে খুবই খারাপ লাগে। এই কেন্দ্রটির বিশাল জায়গা কোনও কার্যকরী প্রকল্প গড়ে তোলার কাজে লাগানো হোক, এটাই আমাদের দাবি। এব্যাপারে ডিএসডিএর মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অপূর্বকুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। আমরা আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। কেন্দ্রটি পুনরুজ্জীবন করা যায় কি না, কিংবা সেখানে নতুন কোনও প্রকল্প গড়ে তোলা যায় কি না, তা নিয়ে বিশদে আলোচনা করা হবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ