নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শ্রীরামপুরের বেসরকারি বাসস্ট্যান্ডের বিপুল পরিকাঠামোকে নাগরিক প্রয়োজনে ব্যবহারের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিরাট জায়গা এবং বিপুল পরিকাঠামো কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেগুলি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবহার করলে পার্কিং লট, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, বিনোদন কেন্দ্র সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, শ্রীরামপুর বাস টার্মিনাস থেকে কয়েকটি রুটের বাস ছাড়ে। রাতে ওই এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকে। ফলে ওই এলাকা অসামাজিক কাজের আখড়া হয়ে উঠেছে।
শ্রীরামপুরের সমাজকর্মী সমীর সাহা বলেন, এই দাবির সঙ্গে আমি সহমত। এ বিষয়ে অতীতে শ্রীরামপুর পুরসভার কর্তাদের নানা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সেসব কেউ কানে তোলেননি। বাস টার্মিনাসে বিপুল পরিকাঠামো রয়েছে। সেগুলি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে শহরের চেহারা বদলে যাবে। এ বিষয়ে বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুমন ঘোষ বলেন, এলাকাবাসীর প্রত্যাশার কথা আমরা জানি। বাস টার্মিনাসের পরিকাঠামো নিয়ে দলীয়স্তরে তত্ত্বতালাশ করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও সরকারের সঙ্গে কথা বলা হবে। ওই বাস টার্মিনাসে পুরসভার একটি অংশ রয়েছে। শ্রীরামপুর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা ঋতব্রত-তৃণমূলের জেলা সভাপতি সন্তোষ সিং (পাপ্পু) বলেন, আমরা পরিকল্পনা করলেও সবটা কার্যকর হয়নি। এখন নতুন সরকার পদক্ষেপ করলে ভালোই হবে।
স্থানীয় ও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে ওই বাস টার্মিনাস তৈরি করা হয়েছিল। পুরসভা ও হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের (এইচ আর বি সি) উদ্যোগে ওই পরিকাঠামো গড়ে ওঠে। বরাদ্দ হয়েছিল প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। ওই বাস টার্মিনাসের নীচে বিরাট পরিকাঠামো রয়েছে। বিল্ডিংয়ের তিনটি তলের প্রতিটিতে ২২ হাজার বর্গফুট জায়গা রয়েছে। বছর কয়েক আগে পুরসভা এখানে একটি উৎসব ভবন বা কমিউনিটি সেন্টার তৈরির কথা ভেবেছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন সিংহভাগ পরিকাঠামোই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে। সেই অংশ সাধারণ মানুষের উপযোগী করার দাবি উঠতে শুরু করেছে। নিজস্ব চিত্র