Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পথবাতিতে মুড়ে দাও গ্রামের পথ থেকে মাঠের কোনা, সিংহভাগ মহিলার এক সুর

আঁধারেই ভয়। তাই অন্ধকার দূর করো। যতটা পার, আলোকিত করে দাও গ্রামীণ পথঘাট, মাঠের আনাচ-কানাচ।

পথবাতিতে মুড়ে দাও গ্রামের পথ থেকে  মাঠের কোনা, সিংহভাগ মহিলার এক সুর
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আঁধারেই ভয়। তাই অন্ধকার দূর করো। যতটা পার, আলোকিত করে দাও গ্রামীণ পথঘাট, মাঠের আনাচ-কানাচ। মগরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিংহভাগ বুথ থেকে এমনই দাবি নিয়ে পাড়ায় সমাধান ক্যাম্পে হাজির হচ্ছেন গ্রামীণ নাগরিকরা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই দাবি যাঁরা পেশ করছেন, তাঁদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই মহিলা। মগরার এই পঞ্চায়েতে মোট ১৭টি বুথ আছে। তারমধ্যে ইতিমধ্যেই আটটিতে ক্যাম্প হয়েছে। 

Advertisement

মগরা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের পাড়ায় সমাধান ক্যাম্পে আসা মহিলাদের বক্তব্য প্রায় একই। তার সারমর্ম হল, রাস্তা থেকে পাড়া, মাঠের আনাচ-কানাচ সর্বত্রই আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, অন্ধকারে আমরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করি। একদিকে, সাপ-পোকামাকড়ের উপদ্রব, অন্যদিকে এক শ্রেণির মানুষের লালসা। স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তাদের দাবি, এলাকায় আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু নাগরিকরা পথঘাট আরও বেশি আলোকিত করতে চাইছেন।
আলোর পাশাপাশি মহিলা সরব পানীয় জলের দাবিতেও। গ্রামীণ মহিলারা চাইছেন, প্রতিটি পাড়ায় অন্তত একটি করে নলকূপ থাকুক। এলাকায় বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু তা বিদ্যুৎ নির্ভর। গ্রামের দিকে একবার বিদ্যুৎ চলে আসতে বহু সময় লাগে। তাই বিকল্প হিসেবে নলকূপের দাবি তুলেছেন মহিলারা।
মগরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, আমাদের পঞ্চায়েতে পথবাতি থেকে সৌর আলো— সবই আছে। কিন্তু মহিলারা পাড়ায় সমাধান ক্যাম্পে এসে আরও আলোর ব্যবস্থা করতে বলেছেন। তাঁরা চাইছেন না, গ্রামীণ রাস্তার কোনও অংশ অন্ধকার থাকুক। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মগরার নতুনগ্রামের ১২ মৌজার বাসিন্দা মৌসুমি ঘোষ বলেন, রাতবিরেতে ছেলেমেয়েরা টিউশন পড়ে বাড়ি ফেরে। আমাদেরও রাস্তায় বেরতে হয়। রাস্তায় আলোর সংখ্যা বাড়ালে খুব ভালো হয়। সরকার সুযোগ দিয়েছে, তাই দাবি পেশ করেছি। আঁধার মানেই আমাদের কাছে আতঙ্ক। পুরুষোত্তমপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায় বলেন, গ্রামীণ মেয়েদের একাংশ এখন বাইরে কাজে যাচ্ছে বা দূর-দূরান্তে পড়তে যাচ্ছে। তারা রাত করে ফিরছে। এমন নয় যে, এলাকায় আলোর অভাব আছে। কিন্তু আরও আলো দিলে চারদিক ঝলমল করবে। এতে সাপখোপ, পোকামাকড়ের উপদ্রব যেমন এড়ানো যাবে, তেমনই দুষ্কৃতীদের হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। তাছাড়া আলো মানেই মেয়েদের কাছে বাড়তি সাহস। সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক প্রিয়ঙ্কর দাস বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে আবার বিকৃত চর্চাও হয়েছে। এসবের কারণেই মানুষের মন বিষিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে মহিলারা নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি ভাবছেন। সেখান থেকেই বাড়তি আলোর দাবি জানাচ্ছেন। এ নিয়ে চর্চা হতেই পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ