সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর ও নবদ্বীপ: কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় এবার ছোটো মূর্তির চাহিদা বেশি। আর চাহিদা থাকায় কৃষ্ণনগর ও নবদ্বীপে মৃৎশিল্পালয়গুলিতে ছোট লক্ষ্মীপ্রতিমা বেশি বিক্রি হচ্ছে। কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পালয়গুলিতে ছয় থেকে বারো ইঞ্চির প্রতিমার চাহিদা বেশি রয়েছে। গৃহস্থ বাড়িতে কিংবা দোকানে পুজোর জন্য এই মাপের লক্ষ্মী প্রতিমাই সকলের পছন্দ। কারণ, এর দামও সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। আবার অনেক ক্রেতা। খুঁজছেন সাবেকি সাজ, আবার কেউ পছন্দ করছেন রং ও অলংকারে সাজানো আকর্ষণীয় মূর্তি। অবশ্য সেক্ষেত্রে দাম বেশি পড়ছে। মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, বাড়ির পুজোর জন্য ছোটো প্রতিমার চাহিদাই বেশি। ক্লাব ও বারোয়ারিগুলি সাধারণত বড় প্রতিমার অর্ডার দিয়ে থাকে। ছোটো প্রতিমার দাম শুরু ১০০ টাকা থেকে। আকার, গড়ন, রং এবং সাজসজ্জার উপর নির্ভর করে সেই প্রতিমার দাম ২০০০ টাকা চাইছে। পল্লিশ্রী থেকে লক্ষ্মীমূর্তি কিনতে আসা গৃহবধূ অরিত্রা ঘোষ বলেন, আমাদের বাড়িতে এক ফুটের লক্ষ্মীপ্রতিমার পুজো হয়। ঘরে বড় মূর্তি রাখার মতো জায়গা নেই । তাই ছোটো মূর্তিই কেনা হয়। এর দামও আমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে। মৃৎশিল্পী স্বরূপ ঘোষ বলেন, এবার দুর্গাপুজোর অনেক আগেই লক্ষ্মী প্রতিমার অর্ডার এসেছিল। ছোট মূর্তির অর্ডার বেশি থাকায় আমরা বেশি প্রতিমা তৈরি করেছি। বাজারে ছোটো প্রতিমা বেশি বিক্রি হওয়ায় আমাদের লাভ বাড়বে। নবদ্বীপের তৈরি ছাঁচের লক্ষ্মীমূর্তির চাহিদাও তুঙ্গে। শুধু স্থানীয় বাজার নয়, কৃষ্ণনগর, বেথুয়াডহরি, কাটোয়া, ধাত্রীগ্রাম ও বহরমপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এখানকার ছাঁচের মূর্তির। এমনকি এখানকার ছাঁচের মূর্তি পাড়ি দিয়েছে বেঙ্গালুরুতেও। নবদ্বীপের শ্রীবাসঅঙ্গন ঘাট সংলগ্ন দইপট্টির দক্ষিণাঞ্চল ও ফাঁসিতলা পালপাড়া সহ আশপাশের এলাকায় এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় ৫০টি পরিবার। শিল্পী রতনকুমার পাল বলেন, বংশ পরম্পরায় এই কাজ করে আসছি। এ বছর ১২০০ প্রতিমা তৈরি করেছি। আগের মতো লাভ না থাকলেও জীবিকার তাগিদে এই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রবীণ মৃৎশিল্পী জীবন পাল বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। বাবার হাত ধরেই এই পেশায় আসা। এখন আমার ছেলেও প্রতিমা তৈরি করে। বউমা ও নাতনি রংয়ের কাজ সামলায়। আমরা মাটির মডেল তৈরি করে প্লাস্টার অব প্যারিসের ছাঁচে প্রতিমা গড়ি। কয়েক দশক ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকেও সরকারি কাজের সুযোগ-সুবিধা পাইনি। গৃহবধূ অনিতা পাল বলেন, ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়ে আসার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরের সঙ্গে প্রতিমা তৈরির কাজে হাত লাগাই। প্রতিমার চালচিত্র থেকে শুরু করে পোশাক সবকিছুই রং করি। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রনিতা পাল বলে, ছোটো থেকেই বাবা ও দাদুকে প্রতিমা তৈরি করতে দেখছি। আমিও পড়াশোনার ফাঁকে সময় পেলেই কাজে হাত লাগাই। প্রতিমায় রং করতে সাহায্য করি। কাটোয়ার বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমার দশকর্মার দোকান রয়েছে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে নবদ্বীপ থেকে লক্ষ্মী প্রতিমা কিনে নিয়ে যাই। এবছর অর্ডার দিয়েও চাহিদামতো প্রতিমা পাইনি। ছাঁচের প্রতিমা ৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হয়। শিল্পী দীপ দাস বলেন, চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সঙ্গে প্রতিমার চক্ষুদানের কাজ করছি। প্রতিমার চোখ-মুখের গড়ন দেখেই প্রতিমার দাম অনেকটা নির্ধারিত হয়। আমি চাই, সরকার আমাদের মতো শিল্পীদের পাশে এসে দাঁড়াক।



