Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোলপুরে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে মাইকিং, পুনর্বাসনের দাবি

বোলপুরে সরকারি জমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ। ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবি। বিস্তারিত পড়ুন।

বোলপুরে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে মাইকিং, পুনর্বাসনের দাবি
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: রাজ্যে পালাবদলের পর সরকারি জমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান জোরদার হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই এবার বোলপুর শহরকেও জবরদখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিল মহকুমা প্রশাসন ও বোলপুর পুরসভা। গত বৃহস্পতিবার মহকুমাশাসকের দপ্তরে প্রশাসনিক বৈঠকের পর রবিবার বিকেল ও সোমবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে তিন দিনের মধ্যে সরকারি জমি ও ফুটপাত স্বেচ্ছায় খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখল না সরালে আইনানুগ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এই ঘোষণার পরই উদ্বেগ ছড়িয়েছে ফুটপাত ও সরকারি জমিতে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, উচ্ছেদের আগে বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

Advertisement

বোলপুরের শ্রীনিকেতন রোড,  লজের মোড়, চিত্রা মোড়, চৌরাস্তা, স্টেশন রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ফুটপাত দখল ও যানজটের সমস্যা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার দুইধারে অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় পথচারীদের চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই যান চলাচলেও নিত্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালেও যানজট কমাতে বোলপুর পুরসভা বড় আকারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল। সেই সময় বহু ফুটপাত ব্যবসায়ীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নেতাজি মার্কেট এলাকায় পুনর্বাসনও দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্য সরকারের নির্দেশে ফের দখলমুক্ত অভিযান শুরু হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা শুরু হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার বোলপুর পুরসভা, পূর্ত দপ্তর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং মহকুমা প্রশাসন যৌথভাবে শহরজুড়ে সমীক্ষা চালাবে। কোন কোন এলাকায় সরকারি জমি ও ফুটপাত দখল করা হয়েছে তা চিহ্নিত করা হবে। এরপর ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। সেই সময়ের মধ্যেও দখল না সরালে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে উদ্বেগে পড়েছেন বহু ফুটপাত ব্যবসায়ী। বোলপুর-শ্রীনিকেতন রোডের ব্যবসায়ী রাহুল সাউ ও রঞ্জিত সাউ বলেন, হঠাৎ করে পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদের ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ছোট ব্যবসা করে পরিবার চালাই। উচ্ছেদের আগে আমাদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা হোক। অন্য এক ফুটপাত ব্যবসায়ী রবি মণ্ডল ও মন্দিরা দত্ত বলেন, আমরাও চাই শহরের সৌন্দর্য বাড়ুক এবং যানজট কমুক। কিন্তু আমাদের জীবিকার বিষয়টিও প্রশাসনের দেখা উচিত। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেই উচ্ছেদ করা হোক।
এ বিষয়ে প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সমস্ত প্রক্রিয়াই আইন ও প্রশাসনিক বিধি মেনেই মহকুমাশাসকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ