সংবাদদাতা, বারুইপুর: শিয়ালদহ দক্ষিণের লক্ষ্মীকান্তপুর শাখায় ফের দফায় দফায় রেল অবরোধ মহিলা যাত্রীদের। তাঁদের বক্তব্য, এই শাখায় সকালের ট্রেনে তিনটি মহিলা কামরা আছে। অথচ চারটি কামরা থাকার কথা। মহিলাদের দাবি, কামরা সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
সংবাদদাতা, বারুইপুর: শিয়ালদহ দক্ষিণের লক্ষ্মীকান্তপুর শাখায় ফের দফায় দফায় রেল অবরোধ মহিলা যাত্রীদের। তাঁদের বক্তব্য, এই শাখায় সকালের ট্রেনে তিনটি মহিলা কামরা আছে। অথচ চারটি কামরা থাকার কথা। মহিলাদের দাবি, কামরা সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
শনিবার সকাল থেকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরোধ চলে। এর ফলে আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। অনেককেই পায়ে হেঁটে বা চড়া ভাড়া দিয়ে অটোতে করে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। অবরোধ তুলতে ঘটনাস্থলে যায় রেলপুলিস। তাদের সঙ্গে অবরোধকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অবরোধ চলতে থাকে। তারপর আলোচনায় বসে দু’পক্ষ। সকাল ৯-২৫ মিনিট নাগাদ অবরোধ উঠে যায়। পূর্ব রেল সূত্রে খবর, অবরোধের ফলে চার জোড়া ট্রেন বাতিল হয়েছে। পূর্ব রেলের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে দীপ্তিময় দত্ত বলেন, ‘আরও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের দাবিতে এই অবরোধ।’
এদিন, সকাল ছ’টায় প্রথমে মথুরাপুর স্টেশনে অবরোধ শুরু করেন মহিলা যাত্রীরা। ডাউন লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল ট্রেনের সামনে লাইনে বসে পড়েন তাঁরা। অবরোধকারীদের বক্তব্য, সকাল ৫-৫০ মিনিটে যে ট্রেনটি লক্ষ্মীকান্তপুর থেকে শিয়ালদহে যায়, সেই ট্রেনে মহিলা কামরা মাত্র তিনটি। এর ফলে অনেক যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারেননি। মহিলা কামরার সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে এখানে। এরপর গোচরণ স্টেশনে একই দাবিতে অবরোধ শুরু হয়। আপ ও ডাউন লক্ষ্মীকান্তপুর, নামখানা লোকাল আটকে দেওয়া হয়। বারুইপুর জিআরপি, আরপিএফ যায় ঘটনাস্থলে। পুলিস অবরোধ তুলতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। ধাক্কাধাক্কি, ধস্তাধস্তি বেধে যায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টারও বেশি চলে অবরোধ। এর পাশাপাশি একই দাবি নিয়ে এক ঘণ্টা ধরে জয়নগর-মজিলপুর স্টেশনেও অবরোধ চলে। অবরোধকারীরা বক্তব্য, এই শাখায় মথুরাপুর, জয়নগর পর্যন্ত কোনও লোকাল ট্রেন চালু করেনি রেল। কিছু ট্রেনে মহিলা কামরার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অফিস টাইমে ভিড়ের জন্য ট্রেনে ওঠা যাচ্ছে না। এক নিত্যযাত্রী বলেন, একমাস পর আবার অবরোধ হল এই শাখায়। হাসপাতালে এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। তা পারলাম না। এই ভোগান্তি কতদিন চলবে? প্রসঙ্গত, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল মহিলা কামরা বৃদ্ধির প্রতিবাদে অবরোধ হয়েছিল লক্ষ্মীকান্তপুর ও ডায়মন্ডহারবার শাখায়।