নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অনন্ত নাগেশ্বরণ আইআইটি মাদ্রাজে এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ২০ বছরে দুনিয়ার কাজের জগৎ বদলে যাবে। এমনকি বিশ্ব রাজনীতি ও ক্ষমতায়নের সমীকরণে প্রচুর রদবদল হবে। সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এমতাবস্থায় কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়বে সবথেকে বেশি। যে কাজে সরাসরি শারীরিক শক্তি, স্কিলের নৈপূণ্য এবং অভিজ্ঞতার মিশেলে তৈরি কর্মক্ষমতার প্রয়োজন, সেই কাজের গুরুত্ব ও চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। নাগেশ্বরণ বলেছেন, প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, যন্ত্রপাতি মেরামতি, ইলেকট্রনিক উপকরণ সারানো অথবা সংযুক্তিকরণ ইত্যাদি কাজের চাহিদা বাড়বে। একইসঙ্গে বেড়ে যাবে এইসব কাজের কমর্সংস্থানের সুযোগ। অর্থাৎ যে কাজ সরাসরি এআই করতে পারবে না, সেই কাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা থেকে যাবে ও চাহিদা তথা আয়ের সুযোগ বাড়বে। শুধুই ডিজিটাল ভিত্তিক কোর্স, অটোমেশন, সফটঅয়্যার, এআই, রোবোটিকস সংক্রান্ত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণে আটকে থাকলে চলবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। কারণ এই শিক্ষাক্রম এবং কাজের জগতের প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়ে চলেছে। তিনি মনে করেন, এআই শুধুই কাজের সুযোগকে কেড়ে নেবে এমন নয়। বরং কাজের সুযোগ বৃদ্ধিও করবে এবং কাজের নির্মাণও করবে। শুধু ছাত্রছাত্রীদের সেই কাজগুলি করার যোগ্যতা এবং এআইকে সেই অভিমুখে ব্যবহার করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। যে কাজের দখল নেবে এআই, সেই কাজটিরও চালিকাশক্তি বহু ক্ষেত্রে হবে মানুষই। অর্থাৎ প্রোগ্রামিং থেকে প্রয়োগ, মানুষের উপরই নির্ভরশীল হবে ওই এআই চালিত কাজ। ২০৪৫ সালের পর থেকে সম্পূর্ণ নতুন এক কাজের পরিবেশ দুনিয়া জুড়ে শুরু হয়ে যাবে। সেই পরিবর্তিত দুনিয়ায় টিকে থাকতে ভারত ইতিমধ্যেই প্রস্তুত হচ্ছে বলে দাবি করেন নাগেশ্বরণ।



