


সংবাদদাতা, কাঁথি: খেজুরির জনকা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি সহ পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি উঠেছে। বর্তমানে ১০টি বেড নিয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চলছে। শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ রোগী ও প্রসূতিদের চাপ সামলাতে নতুন একটি ভবনের প্রয়োজন। এছাড়া সীমানা পাঁচিল না থাকা সহ নানা সমস্যা রয়েছে। অবিলম্বে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মানোন্নয়নের দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা।
১৯১৬ সালের ২০মে জনকা স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয়। খেজুরি বিধানসভা এলাকার মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে পুরনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র এটি। খেজুরি-২ ব্লকের জনকা পঞ্চায়েতের অজানবাড়ি মৌজায় অবস্থিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি খেজুরির প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ও সমাজসেবী মহেন্দ্রনাথ করণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছিল। জনকা সহ খেজুরি-২ ব্লকের পাঁচটি পঞ্চায়েত এলাকার মানুষজন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিনজন চিকিৎসক রয়েছেন। জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসার দু’জন এবং একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট মেডিকেল অফিসার। পাঁচজন নার্স, একজন ফার্মাসিস্ট, দু’জন গ্রুপ-ডি স্টাফ ও একজন সুইপার রয়েছেন। আউটডোরে রোগীর চাপ বাড়ছে। প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন। ইন্ডোরে বিশেষ করে প্রসূতিদের ভরতির হার ভালোই। একাধিক প্রসূতি ভরতি থাকেন এবং ডেলিভারিও হয়। গত ২০২৫-’২৬ বর্ষে সবচেয়ে বেশি ডেলিভারি করার নিরিখে নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলা থেকে বিশেষ শিরোপা পেয়েছে জনকা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। মোট ৬১৭টি ডেলিভারি হয়েছিল। বোগা-বিদ্যাপীঠ সড়কের পাশে হওয়ায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রই ভরসা। আগে পুরানো ভবনে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চলত। ১৫বছর আগে নতুন ভবন তৈরি হয়। যদিও সেই ভবনের উপরে পাকা ছাদ নেই। টিনের ছাউনি দেওয়া রয়েছে। বর্তমানে ওই ভবনে মহিলা বিভাগ রয়েছে। ১০টি বেড রয়েছে। সেখানে চিকিৎসার জন্য পুরুষ রোগীদেরও বেডে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। তাই পুরুষ রোগীদের ভরতি করার মতো পরিস্থিতি থাকলে তাঁদের শিলাবেড়িয়ায় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেফার করে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। সেকারণে পুরুষদের জন্য আলাদা বিভাগের খুব প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক-নার্সরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা দরকার। শয্যাসংখ্যা বাড়াতে হবে। ভবনে মহিলা ও পুরুষ বিভাগ আলাদা বিভাগ থাকবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক-নার্স সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার কোয়ার্টারগুলির ভগ্নদশা। সেখানে কেউ থাকেন না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারদিকে কোনো সীমানা পাঁচিল না থাকায় যে কেউ যখন-তখন ঢুকে পড়ে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারদিকে গবাদি পশু ঘুরে বেড়ায়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে বেদখল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় মুরলীচকের বাসিন্দা সুমননারায়ণ বাকরা বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের কিছু হলে জনকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রই ভরসা। প্রসূতিদের মুশকিল আসান এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সাধারণ ও জরুরি চিকিৎসা তো রয়েছেই। নয়তো আমাদের সেই ৪০কিলোমিটার দূরে কাঁথি মহকুমা হাসপাতাল কিংবা তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর যা চাপ, শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ৩০টি করা প্রয়োজন। আমরা এবিষয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরে একাধিকবার দরবার করেছি। চিকিৎসক সাজিদ আহমেদ বলেন, সমস্ত বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার সিএমওইচ অসিতকুমার দেওয়ান বলেন, সমস্ত বিষয় সম্পর্কে আমরা অবগত। আমাদের কাছে একাধিক প্রস্তাবও এসেছে। এনিয়ে আলোচনা করে ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করা হবে।