বৈদ্যুতিক আলোর জন্য মাটির প্রদীপের চাহিদা ব্যাপক কমেছে
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: একসময় দুর্গাপুজো শেষ হলেই কালীপুজো ও দীপাবলির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠতেন পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত মাটির প্রদীপ তৈরির কাজ। কারও কাছে আসত পাঁচ হাজার, আবার কারও কাছে দশ হাজার প্রদীপ তৈরির বরাত। সেই প্রদীপ তৈরি, শুকনো করা এবং পুড়িয়ে বাজারে পাঠানোর ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে দীপাবলির আলোকসজ্জার ধরন। মাটির প্রদীপ ও মোমবাতির জায়গা ক্রমশ দখল করেছে নানা ধরনের বৈদ্যুতিন আলো। ফলে প্রদীপ তৈরির চাহিদা কমেছে, কাজ হারাচ্ছেন বহু মৃৎশিল্পী। এক সময়ের ব্যস্ত পালপাড়ায় এখন আর আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। শিকারপুরের মৃৎশিল্পী সুভাষ পাল জানান, আগে দুর্গাপুজো শেষ হলেই এলাকার পালপাড়াগুলিতে শুরু হয়ে যেত মাটির প্রদীপ তৈরির তোড়জোড়। কালীপুজোর আগে প্রদীপ তৈরির জন্য দিনরাত এক করে কাজ করতে হত। চাকের সাহায্যে প্রদীপ তৈরি করার পরে বাড়ির মহিলারা ও শিশুরা উঠোনে কিংবা ছাদে রোদে সেগুলি শুকোতে দিত। পরে শুকনো প্রদীপ আগুনে পুড়িয়ে বিক্রির জন্য বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হত। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতেন পরিবারের একাধিক সদস্য। কিন্তু বর্তমানে সেই চাহিদা অনেকটাই কমে গিয়েছে। সুভাষ পাল জানান, আগে যেখানে দশ হাজার প্রদীপ তৈরি করতেন, সেখানে এ বছর তাঁর তৈরি প্রদীপের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজারে। চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেকেই প্রদীপ তৈরির বদলে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। শিকারপুরের এক স্কুলশিক্ষক জানান, ছোটবেলা থেকেই কালীপুজোর আগে পালপাড়ায় মাটির প্রদীপ তৈরির ব্যস্ততা দেখে আসছেন তিনি। পুজোর আগে বাড়িতে বাড়িতে প্রদীপ কেনার ধুম পড়ে যেত। কালীপুজোর সন্ধ্যায় বাড়ির ছাদে ও উঠোনে জ্বালানো হত সারি সারি মাটির প্রদীপ। পাশাপাশি দোকান থেকে কিনে আনা হত প্যাকেট ভর্তি মোমবাতি। বর্তমানে বাজারে প্রদীপ ও মোমবাতির আদলে তৈরি বৈদ্যুতিক বাতি-সহ নানা ধরনের আলোর সম্ভার রয়েছে। রঙিন আলো, ঝলমলে আলোকমালা এবং বিভিন্ন নকশার বৈদ্যুতিন বাতি দিয়ে বাড়ি সাজাচ্ছেন অনেকে। তার মতে, মাটির প্রদীপ সাধারণত একবার ব্যবহারের পর ফেলে দিতে হয়। মোমবাতিও জ্বালানোর পরে নিঃশেষ হয়ে যায়। কিন্তু বৈদ্যুতিন আলো একবার কিনলে তা যত্ন করে রাখলে পরবর্তী কয়েক বছর ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে বারবার নতুন করে প্রদীপ বা মোমবাতি কেনার খরচ এড়াতে অনেকেই বৈদ্যুতিন আলোর দিকে ঝুঁকছেন। বাসিন্দাদের দাবি, আগে শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ থাকলেও বহু গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব ছিল। ফলে দীপাবলিতে মাটির প্রদীপ ও মোমবাতিই ছিল আলোকসজ্জার অন্যতম ভরসা। বর্তমানে প্রত্যন্ত গ্রামেও বাড়িতে বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাওয়ায় বৈদ্যুতিন আলোর ব্যবহার বেড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে মাটির প্রদীপের বাজারে।

Advertisement