Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেলের কাছে পুনর্বাসনের জন্য হকার্স কর্নারের দাবি

রানাঘাটে হকাররা রেলের কাছে পুনর্বাসনের দাবি জানালেন। উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। কী বলছেন সাংসদ জগন্নাথ সরকার? বিস্তারিত পড়ুন।

রেলের কাছে পুনর্বাসনের জন্য হকার্স কর্নারের দাবি
  • ১৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রানাঘাট: জেলায় জেলায় রেলস্টেশন চত্বর জুড়ে থাকা জবরদখলকারী ব্যবসায়ীদের দোকান বুলডোজারে ভাঙা পড়ছে। স্টেশন খালি করতে দ্রুত ধরানো হচ্ছে রেলের নোটিস। ফলে উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এই ব্যবসায়ীরা। এই আতঙ্কেই বুধবার শান্তিপুর ও রানাঘাটের রেল হকাররা, হকার্স কর্নারে’র দাবিতে সরব হন। রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার জানান, এমন এক পরিকল্পনার কথা আমি আগে রেলমন্ত্রীকে একবার জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেও যদি কোনো সুরাহা করতে পারি তবে প্রচুর হকার বাঁচবেন? এবং অনেক পরিবারের আর্থিক সুবিধা হবে। 

Advertisement

রুটি রুজি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শান্তিপুর ও রানাঘাট রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকার শয়ে শয়ে হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।রেলের তরফ থেকে যদি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় তবে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। এই আশঙ্কাতেই এখন ঘুম উড়েছে তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে রেলের কাছে ওই ব্যবসায়ীদের দাবি, রেলেরই কোনো ফাঁকা জায়গায় সুনির্দিষ্ট হকার্স কর্নার তৈরি করে দেওয়া হোক। সেই পুনর্বাসনের পরিবর্তে রেলকে পর্যাপ্ত ভাড়া দিতেও রাজি আছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপুর ও রানাঘাট স্টেশনে রেলের জমিতে ছোটেখাটো দোকান চালিয়ে কোনওরকমে জীবনধারণ করছেন বহু পরিবার। হকারদের একাংশের বক্তব্য, এতদিন যে রেল তাঁদের এখানে বসতে দিয়েছে তার জন্য তাঁরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে আচমকাই  উচ্ছেদ করা হলে তাঁদের পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
শান্তিপুর স্টেশন সংলগ্ন রেলের জায়গায় একটি ছোটো মিষ্টির দোকান চালান অপু রায়। উচ্চশিক্ষিত ওই যুবক  জানান, বাড়িতে বৃদ্ধা মা আছেন। আমরা দুই ভাই দুই এম. এ বিএড সত্বেও একটা চাকরি জোটাতে পারিনি। বাবা মারা যাওয়ার পর নিরুপায় হয়ে মিষ্টির দোকানেরই হাল ধরি। দোকান চালিয়েই কোনও রকমে সংসারটা বাঁচে। ভবিষ্যতে এই দোকানও যদি না থাকে তবে স্বপরিবারে না খেয়ে মরতে হবে।
একই রকম আশঙ্কায় ভুগছেন রানাঘাট স্টেশন সংলগ্ন রেলের জায়গায় থাকা রেডিমেড পোশাক ব্যবসায়ী অচিন্ত্য ঘোষও। একটি ছোটো গুমটিতে জামা কাপড় বিক্রি করে দিন চলে তাঁর। তিনি জানান,এই ছোটো দোকানের আয়ের উপর ভরসা করেই ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ থেকে শুরু করে সংসারের যাবতীয় খরচা চলে। এই জায়গা রেল এতদিন আমাদের ব্যবহার করতে দিয়েছে এটাই বড় কথা। 
কিন্তু এখন আমাদের পুনর্বাসনের কথা ভাবা দরকার। রেল কর্তৃপক্ষ যদি একটি নির্দিষ্ট হকার্স কর্নার করে দেয় এবং তার বিনিময়ে আমাদের 
থেকে পর্যাপ্ত ভাড়া নেয় আমরা তা দিতে রাজি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ