Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিএম অফিসের নামে ভুয়ো অর্ডার বের করে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ, নরঘাটের ঘটনায় জেলা প্রশাসনে তোলপাড় 

ডিএম অফিসের নামে ভুয়ো অর্ডার বের করে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ, নরঘাটের ঘটনায় জেলা প্রশাসনে তোলপাড় 
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নরঘাট: তমলুকে জেলাশাসকের অফিসের নামে ভুয়ো অর্ডার বের করে নরঘাটের মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রে তিনজন শিক্ষা সম্প্রসারক ও সম্প্রসারিকা নিয়োগপত্র পেলেন। তাঁদের অ্যাপ্রুভালের জন্য ওই শিক্ষাকেন্দ্রের মুখ্য শিক্ষা সম্প্রসারক ডিএস অফিসে আসতেই সরকারি অফিসারের চক্ষু চড়কগাছ। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজীর নির্দেশে ওই ঘটনায় তমলুক থানায় এফআইআর করেছেন জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসার বিপ্লব সরকার। মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রে ওই তিনজনের নিয়োগ পুরোপুরি অবৈধ। তারপরও ওই তিনজন নিয়মিত ক্লাস করে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবারও তাঁরা ওই মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রে এসেছিলেন। ঘটনায় তোলপাড় জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তর।
Advertisement
নরঘাট থেকে চৌখালি যাওয়ার রাস্তা বরাবর ৫০০মিটার এগলেই নরঘাট মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রটি রয়েছে। রাস্তার ধারে নীল সাদা রঙের ঝকঝকে দোতলার বিল্ডিং। এখানে প্রায় ৭৫জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। শিক্ষা সম্প্রসারক ও সম্প্রসারিকা ছ’জন। গত ১৩জানুয়ারি ওই মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রের মুখ্য শিক্ষা সম্প্রসারক শেখ আকসার আহমেদ তমলুকে সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসে আসেন। তিনি জেলা আধিকারিক বিপ্লব সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর মাদ্রাসায় সদ্য নিযুক্ত তিনজন শিক্ষা সম্প্রসারক ও সম্প্রসারিকার অ্যাপ্রুভালের আবেদন জানান। ২০২৪সালে ২৬সেপ্টেম্বর এক নির্দেশিকার ভিত্তিতে ওই মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রে সাবির মল্লিক, রেবতী সেনাপতি ও পম্পা সামন্ত নামে তিনজনকে নিয়োগ করা হয় বলে আকসার সাহেবের দাবি। ওই জেলা অফিসার অর্ডার কপি দেখেই হতবাক। জেলা থেকে এভাবে নিয়োগের অর্ডার হয় না। শিক্ষা সম্প্রসারক, সম্প্রসারিকা নিয়োগের অর্ডার রাজ্য থেকেই হয়।
তমলুকে জেলা কালেক্টরেটে জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসে বিশ্বরূপ বিশ্বাস নামে একজন এসআই(মাদ্রাসা) আছেন। মুখ্য শিক্ষা সম্প্রসারকের দাবি, তিনি বিশ্বরূপবাবুর কাছ থেকেই নিয়োগ সংক্রান্ত অর্ডার কপি পেয়েছেন। এসআইয়ের টেবিল থেকেই নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরপরই ওই জেলা অফিসার তাঁর অফিসের এসআই বিশ্বরূপবাবুকে তলব করে এধরনের নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছেন কিনা জানতে চান। জবাবে এসআই(মাদ্রাসা শিক্ষা) বিশ্বরূপবাবু জানান, তাঁর টেবিল থেকে এরকম কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাঁর সিল ও সই জালিয়াতি করে ভুয়ো অনুমোদন পেপার বের করা হয়েছে বলে এসআই দাবি করেন।
ভুয়ো অর্ডারের ভিত্তিতে নরঘাট মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রে তিনজনকে নিয়োগের বিষয়টি জেলাশাসকের নজরে আনেন জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক আধিকারিক বিপ্লব সরকার। জেলাশাসক দ্রুত এফআইআর করার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশে তমলুক থানায় এফআইআর হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ নরঘাটের ওই মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রছাত্রী এবং অধিকাংশ সম্প্রসারক বেরিয়ে গিয়েছেন। মুখ্য শিক্ষা সম্প্রসারকও বাড়ির পথে। ফোনে তিনি বলেন, আমরা ডিএম অফিস থেকে অনুমোদন কপি পেয়ে তিনজনকে নিয়োগ করেছি। এখন জানতে পারছি, সেটি ভুয়ো। এদিকে, নিয়োগ হওয়া ওই তিনজন নিয়মিত মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রে আসছেন। এখন কী হবে জানি না। 
সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসার বলেন, নিয়োগের অনুমোদন জেলা থেকে হয় না। সরকারি নথি ও সই জালিয়াতি করা হয়েছে। সবটাই জেলাশাসকের নজরে আনা হয়েছে। তাঁর নির্দেশে এনিয়ে থানায় এফআইআর করা হয়েছে। তমলুক থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ