নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাত প্রায় ১০টা। অবিশ্রান্ত বৃষ্টি। রিপন স্ট্রিটের চিলতে ঘরে সবেমাত্র খাবার মুখে দিয়েছে ছেলেটা। কিন্তু মোবাইলে নোটিফিকেশন আসতেই উঠে পড়ে ধড়ফড়িয়ে। ডেলিভারি বয়ের পোশাক পরে দ্রুত বাইকে স্টার্ট দেয়। মুখের খাবার ফেলে অন্যের খিদে মেটাতে ছোটে সোহেল আলি ওয়াহাব। কে বলবে, কয়েক ঘণ্টা আগে এই সোহেলের গোলেই শ্রীভূমির বিরুদ্ধে লিড নিয়েছিল সাদার্ন সমিতি? ম্যাচ ২-২ ড্র। মাঠের লড়াই শেষ করেই জীবন যুদ্ধে নেমে পড়ছে সোহেল। লক্ষ্য, ভারতের জাতীয় দলের তারকা হওয়া।
পাঁচজনের সংসার। বাবা হোটলে কাজ করেন। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। কলেজপড়ুয়া বোনের পড়াশোনার খরচ জোগাবে কে? তাই ফুটবলের পাশাপাশি ফুড ডেলিভারির কাজ বেছে নিয়েছে সোহেল। সকালে হাড়ভাঙা প্র্যাকটিস। তারপর কোনওরকমে নাকেমুখে দু’মুঠো গুঁজেই ফুড ডেলিভারের কাজ শুরু। ঢাউস ব্যাগে সাজানো হরেক কিসিমের বাক্স। লোকেশন অনুযায়ী পৌঁছে দিতে হবে কাস্টমারের হাতে। ‘ক্লান্তিতে চোখ ঢুলে আসে। কিন্তু আমাদের ঘুমোলে চলে না দাদা।’ বাইক চালাতে চালাতেই কথা বলে ওয়াহাব। প্রথম ডিভিশনে চাঁদনিতে খেলে নজর কাড়ে ময়দানে। ২১ বছরের ওয়াহাবকে সই করায় সাদার্ন। অভিষেকেই লক্ষ্যভেদ সুনীল ছেত্রী-অনুরাগীর। গোলের পর মনে পড়েছিল মায়ের মুখ। ছেলে গোল করেছে। মা আজ দারুণ খুশি। ভাঙা ঘরে সোহেলই যে চাঁদের আলো।