দিল্লির মহাসমাবেশে ব্যবসায়ীদের ১১ হাজার কোটির ধাক্কা! পালটা কেন্দ্রকেই কাঠগড়ায় তুললেন রাহুল
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:২৬
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি, ২ নভেম্বর: সামনেই উৎসবের মরশুম। দীপাবলি হাতে গোনা আর কিছুদিন। এই সময় রাজধানী দিল্লির বাজারগুলি যখন সরগরম থাকার কথা তখন ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ উলটো। কাল বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেল রাজধানীর বিস্তীর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। বন্ধ রইল একের পর এক বড় বাজার। এমনকি থমকে গেল পণ্য পরিবহণ, বাতিল হয়ে গেল হোটেল রেস্তোরাঁর বুকিংও। কার্যত ওই এলাকাজুড়ে একদিনে সৃষ্টি হয়েছিল অচলাবস্থা। আর তার জেরেই প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করল ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার এপ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিআইটি)। 

Advertisement

এই সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের দাবি, গত ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের কারণে রাজধানীর ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮,৮০০ কোটি টাকা। পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহ ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে ১,৫০০ কোটি টাকা। হোটেল, রেস্তরাঁ, পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি দিনমজুর ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের মজুরি বাবদ ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দিনমজুররা। প্রায় ২০ লক্ষ শ্রমিক, অটো ও ই-রিকশা চালক, ফুটপাতের বিক্রেতা এবং অন্যান্য অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী একদিনের রোজগার হারিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। 

অন্যদিকে, এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, দিল্লিতে জোর করে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সমাবেশে যোগ দিতে আসা মানুষজনকে স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করার আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, মিছিল ও মহাসমাবেশে যোগ দিতে আসা মানুষকে তিনি বাজারে কেনাকাটা করতে বলেছিলেন। কিন্তু কনট প্লেসে যাওয়ার পথে তাঁরা জানতে পারেন, বিজেপি জোর করে সমস্ত দোকান বন্ধ করিয়ে দিয়েছে।