সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথ, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, জেপি নাড্ডার মতো নেতারা পূর্ব বর্ধমানে এসে সভা করেছেন। দলের কর্মীদের অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু, নির্বাচন শুরুর ১২ ঘণ্টা আগেও জেলায় প্রায় অর্ধেক বুথে বিজেপি এজেন্ট ঠিক করতে পারেনি। সব থেকে খারাপ অবস্থা মঙ্গলকোট, মন্তেশ্বর, খণ্ডঘোষ, বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে। বহু হিন্দু প্রভাবিত বুথেও তারা এজেন্ট দিতে পারছে না। অথচ এবার সব বুথেই তাদের এজেন্ট দেওয়ার টার্গেট ছিল। সেই মতো ভিন রাজ্য থেকে আসা নেতারা মণ্ডলে গিয়ে দফায় দফায় বৈঠকও করেছেন। অনেকের কাছেই তাঁরা বুথ এজেন্ট হওয়ার প্রস্তাব রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁরা রাজি হননি। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনের পর কেউ পাশে থাকে না। তাই ঝুঁকি নিতে নারাজ।
মেমারির এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘প্রতি বুথে এজেন্ট বসানোর জন্য সংগঠন দরকার। ভোটের আগে বুথ কমিটি গড়ার দরকার ছিল। সেই সংগঠন দল তৈরি করতে পারেনি। সবটাই হাওয়ায় হচ্ছে। বুথে এজেন্টদের বড় ভূমিকা থাকে। সেটা ভিন রাজ্যের নেতারা ভালই বোঝেন। সেই কারণে তাঁরা আসার পর থেকেই এজেন্ট ঠিক করতে চেয়েছিলেন। ২০২১ সালের অভিজ্ঞতা ভাল নয়। সেবার ভোটে বিপর্যয়ের পর আর জেলা বা রাজ্য নেতাদের দেখা যায়নি। এমনকি, অনেকে ফোন ধরেননি। সেই কারণে এবার অনেকেই এজেন্ট হওয়ার ঝুঁকি নেয়নি। তবে অন্যান্য বারের মতো এবার ভয়ের পরিবেশ নেই। নির্বাচন কমিশন সব রকম ব্যবস্থা করছে। তারপরও এজেন্ট দেওয়া যাচ্ছে না। এটা দলের বড় ব্যর্থতা।’
বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, মানুষ কাকে ভোট দেবে, তা আগেই ঠিক করে ফেলেছে। প্রতি বুথেই আমাদের কর্মী এবং সমর্থকরা থাকবেন। মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, বিজেপি’র এজেন্ট ঠিক করে দেওয়ার কাজ আমাদের নয়। নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি এবার যৌথ ভাবে ময়দানে নেমেছে। তারপরও তারা এজেন্ট পাচ্ছে না। এটাতেই বোঝা যাচ্ছে, ভোটের ফলাফল কী হতে চলেছে।
বিজেপি’র অনেকেই বলছেন, ২০১১ সালে তৃণমূলেরও বহু বুথে এজেন্ট ছিল না। তারপরও তারা জিতেছে। সিপিএম কোনো ভাবেই আটকাতে পারেনি। তৃণমূলের বক্তব্য, সেবার মানুষের আবেগ ছিল। সিপিএমকে সরানোর শপথ নিয়েছিল গোটা বাংলা। এবার সেই অবস্থা নেই। মানুষ বিজেপি’র অত্যাচারের জবাব দিতে ইভিএমের বোতাম টিপবে। তাই ২০১১ সালের সঙ্গে এবারের নির্বাচনের তুলনা করা অর্থহীন।
পূর্ব বর্ধমানে এবার ৪৬৬০টি বুথে ভোট হচ্ছে। তারমধ্যে প্রায় ১৯০০ বুথে বিজেপি এজেন্ট ঠিক করতে পেরেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদেরও কতজন শেষ পর্যন্ত বুথে যাবেন তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।