নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বর্ষায় এবারও নাজেহাল দিল্লির বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার মরশুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাজধানী শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ফলে বৃহস্পতিবার দিনভর চরম হয়রানির শিকার হতে হল সাধারণ মানুষকে। প্রশাসনিক অব্যবস্থা একপ্রকার স্পষ্ট করে এদিন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শুধু জানানো হয়েছে, তদারকি চলছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা অবশ্য এদিন হালহকিকত খতিয়ে দেখতে রাস্তায় নামেন। দিল্লির বেশ কয়েকটি এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
দিল্লির পূর্তমন্ত্রী পরবেশ সিং বর্মা আবার দাবি করেছেন, আগের পরিস্থিতি আর নেই। একসময় মিন্টো রোড ও সংলগ্ন ব্রিজের নীচে জল জমে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হত। বৃহস্পতিবার সেই অংশে যানবাহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। দিল্লির বিকাশ মার্গ, সদর বাজার, বদরপুরের মতো একাধিক জায়গার পাশাপাশি জল জমে আইটিওর কিছু অংশেও। রোহিনি এবং ইস্ট অব কৈলাসে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির উপর গাছ পড়ে যায়। যদিও দু’টো ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। যদিও বুধবার রাতে দিল্লিতে বৃষ্টির জেরে নির্মীয়মাণ একটি বাড়ি ভেঙে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে তুখমিরপুর এলাকায় (১৬০ মিমি)। এরপর রয়েছে ময়ূরবিহার (১০৩ মিমি) এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (৯০ মিমি)। দিল্লির পাশাপাশি গাজিয়াবাদ, নয়ডা, গুরুগ্রামেও প্রবল বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। গাজিয়াবাদে বৃষ্টির কারণে বসুন্ধরার অটল চক সংলগ্ন এলাকার একটি রাস্তা ধসে বড়োসড়ো গর্ত হয়ে যায়। সেখানে থাকা একটি গাড়ি ও স্কুটার ওই গর্তে পড়ে যায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বৃষ্টিতে লক্ষণীয়ভাবে কমেছে দিল্লিতে দূষণ। বৃহস্পতিবার দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (একিউআই) মান ছিল ৬১। যা ছিল গত তিন বছরে সর্বনিম্ন।