Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটই দিতে পারবেন না প্রথম দফার ‘ডিলিটেড’রা, ট্রাইবুনাল বিশ বাঁও জলে

বৃহস্পতিবার থেকেই চালু হয়ে যাবে ট্রাইবুনাল! সুপ্রিম কোর্টে, দেশের প্রধান বিচারপতির এজলাসে বুক ঠুকে দাবি করেছিল নির্বাচন কমিশন।

ভোটই দিতে পারবেন না প্রথম দফার ‘ডিলিটেড’রা, ট্রাইবুনাল বিশ বাঁও জলে
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার থেকেই চালু হয়ে যাবে ট্রাইবুনাল! সুপ্রিম কোর্টে, দেশের প্রধান বিচারপতির এজলাসে বুক ঠুকে দাবি করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কোথায় কী! যা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে কবে থেকে ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করবে সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, পরিকাঠামো গঠন থেকে স্থান নির্বাচন, কোনোটাই এখনো স্থির করা যায়নি। ফলে প্রথম দফার মনোনয়ন পর্ব শেষের আগে ট্রাইবুনাল চালু হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোট হবে প্রথম দফায়। সেখানকার বিচারাধীন তালিকা থেকে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়টি আপাতত বিশ বাঁও জলে! একইসঙ্গে তাঁদের ভবিষ্যৎও। ট্রাইবুনালে বিচার শুরু না হওয়ায় তাঁরা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। 

Advertisement

কলকাতা হাইকোর্টের ছাড়পত্র মেনে রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কমিশন। ঠিক হয়েছে কলকাতা সহ রাজ্যে ট্রাইবুনালের মোট সাতটি কার্যালয় তৈরি হবে। এদিন থেকেই সেখানে পুরোদমে কাজ চালুর কথা ছিল। কিন্তু জানা গিয়েছে, এখনও পরিকাঠামো তৈরির বিষয়টি এক চুল এগয়নি। একমাত্র জোকায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল গঠনের বিষয়টি পাকা হয়েছে। আর কোন কোন জায়গায় কার্যালয় তৈরি হবে, সেব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধু তা-ই নয়, পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাইবুনালের একাধিক বিচারপতি। ঠিক কী ধরনের পরিকাঠামো থাকবে, তার উত্তর দিতে পারেনি কমিশন। সূত্রের খবর, এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে অনেক বিচারপতিই দায়িত্বভার গ্রহণে নারাজ। ফলে চরম অস্বস্তিতে কমিশন। প্রথম দফার ভোটের জন্য ১৫২টি কেন্দ্রের ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হচ্ছে আগামী ৬ এপ্রিল। তার আগে ট্রাইবুনাল চালু হওয়া নিয়ে রীতিমতো সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে সেই দফায় বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া অন্তত ১২ লক্ষ ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে গিয়েও নাকাল হতে হচ্ছে তাঁদের। কারণ, তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণ জানা নেই। সুপ্রিম কোর্ট তা জানানোর নির্দেশ দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও সেব্যাপারে উচ্চবাচ্য করেনি কমিশন। 
এদিন ট্রাইবুনাল চালুর বিষয়ে নবান্নে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্র, পূর্ত এবং জোকার ওই ইনস্টিটিউটের কর্তারা। কাজের জন্য চেয়ার টেবিল, কম্পিউটারের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রয়োজনে ক্যান্টিন চালু ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছেন তাঁরা। একটি অ্যাম্বুলেন্সও রাখার ব্যাপারে চর্চা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই সমস্ত পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত করার লক্ষ্যে শর্ট টেন্ডারের রাস্তাও খোলা রাখা হয়েছে পূর্তদপ্তরের তরফে। তবে জোকা ছাড়া আর কোথায় ট্রাইবুনাল চালু করা হবে, সেই মর্মে নবান্নে কোনো খবর এসে পৌঁছয়নি বলেই জানা যাচ্ছে। ট্রাইবুনালের সদস্যদের সাহায্য করার জন্য কর্মী নিয়োগ করার পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সবটাই এখনও আটকে প্রাথমিক স্তরে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ