


জেরুজালেম ও নয়াদিল্লি: ইয়াদ ভাশেম। ইজরায়েলের এই হলোকাস্ট মিউজিয়ামে বৃহস্পতিবার শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্মরণ করলেন নাৎসি অত্যাচারের শিকার ইহুদিদের। পাশে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার করা হল। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর। তবে ইজরায়েলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বে’র এই ছবির মধ্যেই এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তুলোধোনা করেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, গতকাল ইজরায়েলের পার্লামেন্টে ‘কেনেসেট’-এ ভাষণ দিতে গিয়ে গাজা সংকট নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের অবস্থানকে খোলাখুলি সমর্থন জানিয়েছেন মোদি। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের তোপ, প্রধানমন্ত্রী মোদি যেভাবে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সমর্থনে ‘নির্লজ্জ’ সাফাই গেয়েছেন, তাতে ভারতের ‘নৈতিক অবস্থান’ লঘু হয়েছে। ইজরায়েল রাষ্ট্র গঠন নিয়ে ১৯৪৭ সালের জুলাইয়ে বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের চিঠির জবাবে জওহরলাল নেহরুর বক্তব্যের উল্লেখও করেছেন এই কংগ্রেস নেতা। নেহরু বলেছিলেন, ইহুদিদের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে ঠিকই। একইসঙ্গে আরব জনগোষ্ঠীর করুণ অবস্থা নিয়েও সমান সমবেদনা রয়েছে আমার। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণে ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন ইস্যুতে ভারতের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যের নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই মত কংগ্রেসের। এদিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ‘গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে’ ফের সমর্থন করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতাকে সংঘাতের বলি হতে দেওয়া হবে না। ইজরালেয়ের ‘গাজা শান্তি পরিকল্পনা’র হাত ধরেই শান্তির পথে ফেরা সম্ভব। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, কেনেসেটে মোদির ভাষণ ইজরায়েলে সবার চোখে জল এনে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরে পশ্চিম এশিয়ার চলতি সংকট নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা হয়েছে বলে খবর। আলোচ্য সূচিতে ছিল ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের (আইএমইসি) বাস্তবায়ন এবং আই২ইউ২ (ইন্ডিয়া-ইজরায়েল-ইউএই-ইউএসএ) গোষ্ঠীর আধীনে সহযোগিতা সংক্রান্ত ইস্যুও। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে আগে এদিন মোদির কথা হয়েছে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজংয়ের সঙ্গেও। সেই বৈঠকে শিক্ষা, স্টার্ট-আপ, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।