Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানবাজারে বেড়েছে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা, জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে অবাধে বিচরণ হরিণের

রবিবার মানবাজারের চাটানিগোড়া গ্রামে একটি পূর্ণবয়স্ক চিতল হরিণ উদ্ধারের ঘটনায় ফের সামনে এল লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা বিষয়টি।

মানবাজারে বেড়েছে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা, জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে অবাধে বিচরণ হরিণের
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, মানবাজার: রবিবার মানবাজারের চাটানিগোড়া গ্রামে একটি পূর্ণবয়স্ক চিতল হরিণ উদ্ধারের ঘটনায় ফের সামনে এল লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা বিষয়টি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েক মাসে মানবাজার ও সংলগ্ন এলাকায় লোকালয়ে একাধিকবার হরিণের দেখা মিলেছে। স্থানীয় ও বনদপ্তরের অনুমান, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যপ্রাণী বেড়েছে। অনেক সময় ওই বন্যপ্রাণী খাবারের সন্ধানে বা কোনোকিছু তাড়া খেয়ে সেগুলি লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা ঘটছে।রবিবার সকালে মানবাজার ১ রেঞ্জের চাটানিগোড়া গ্রামের বাসিন্দারা জলাশয় থেকে একটি চিতল হরিণ উদ্ধার করে বন দপ্তরের হাতে তুলে দেয়। বাসিন্দাদের অনুমান, কুকুরের তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে গিয়ে একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দেয়। পায়ে চোট লাগে হরিণটির। রবিবার হরিণটির প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। সোমবারও তার চিকিৎসা চলে এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

Advertisement

তবে এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছেন না এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, গত কয়েক মাসে মানবাজারের বিভিন্ন গ্রাম ও জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় একাধিকবার হরিণের দেখা মিলেছে। বিশেষ করে বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকাগুলিতে দিনের বেলাতেও হরিণের চলাচল নজরে এসেছে।
মানবাজারের ধানারা অঞ্চলেও গত কয়েক মাসে একাধিকবার হরিণের দেখা পাওয়ার খবর মিলেছে। মাসখানেক আগে বাসুডি গ্রামে একটি হরিণ দেখতে পান কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। অন্যদিকে মানবাজার ১ ব্লকের চাঁদড়া পায়রাচালী অঞ্চলের বাগালধরা-শ্রীরামঘুটু জঙ্গলেও হামেশাই হরিণের দেখা মেলে বলে দাবি স্থানীয়দের। সেখানকার বাসিন্দা মধুসূদন সরেন জানান, মাঝেমধ্যেই জঙ্গলে গোরু চরাতে যাওয়া মানুষজনের চোখে পড়ে হরিণ। অনেক সময় ছাগল বা গোরুর পালের মধ্যেও তারা মিশে যায়। তাঁর দাবি, মাত্র  পাঁচদিন আগেও তিনি একটি হরিণ দেখতে পেয়েছেন।
অন্যদিকে, লোকালয়ে ঢুকে পড়া হরিণের পরিণতি যে সব সময় সুখকর হয় না, তারও নজির রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে বরাবাজার রেঞ্জের নিশ্চিন্তপুর গ্রাম থেকে একটি হরিণের কাটা মাথা ও পায়ের গোড়ালির অংশ উদ্ধার করে বনদপ্তর। জানা যায়, বরাবাজারের মেট্যালা গ্রামে একটি হরিণকে লোকালয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। গ্রামবাসীদের দাবি ছিল, কয়েকটি কুকুর সেই হরিণটিকে তাড়া করেছিল। পরে তল্লাশি চালিয়ে নিশ্চিন্তপুর গ্রাম থেকে দেহাংশ উদ্ধার করে বনদপ্তর।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খাদ্যের সন্ধান, জলের উৎসের খোঁজ কিংবা দলছুট হয়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে হরিণ লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। অনেক সময় কুকুরের তাড়া বা অন্য কোনও কারণে দিশাহারা হয়েও তারা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় চলে আসে। লোকালয়ে হরিণের আনাগোনা খবর পেলেই বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অনেক সময় সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয় না আবার জঙ্গলে চলে যায়।  বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, বন্যপ্রাণী নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচার চালানো হয়। আগের থেকে বন্যপ্রাণী নিয়ে মানুষের সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে। সেই কারণে বন্যপ্রাণীরও সংখ্যা বেড়েছে। তাই অনেক সময় সেগুলোই লোকালয়ে চলে আসছে। খবর পেলেই তার গতিবিধির উপর নজর রাখা হয়। 
 মানবাজারে লোকালয়ে থেকে উদ্ধার হওয়া পূর্ণ বয়স্ক হরিণকে চিকিৎসার জন্য রাখা হয়েছে মানবাজার ১ রেঞ্জ কার্যালয়ে। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ