


বার্মিংহাম: চারটি চার, একটি ছক্কা এবং সঙ্গে ওয়াইড। ৩২তম ওভারে উঠল ২৩ রান। এজবাস্টন টেস্টের তৃতীয় দিনে ভারতীয় পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা দেদার রান বিলোলেন। জেমি স্মিথের সামনে বড়ই অসহায় দেখাল তাঁকে। একটা সময় প্রসিদ্ধ ৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে দেন ৫০ রান। ইকোনমি রেট ১০.০০। টি-২০ ক্রিকেটও লজ্জা পাবে!
দিনের শুরুতে জোড়া উইকেট নিয়ে সিরাজ যে ঝাঁকুনি দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড শিবিরে, তা ক্রমশ আলগা হয় প্রসিদ্ধর ব্যর্থতায়। শুধু তো এই ম্যাচ নয়, হেডিংলে টেস্টেও প্রচুর রান দিয়েছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ২০ ওভারে ব্যয় করেন ১২৮। পেয়েছিলেন ৩টি উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রান দেন ১৪ ওভারে। তা সত্ত্বেও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট কেন তাঁর উপর আস্থা রাখল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পরিসংখ্যান বলছে, কমপক্ষে ৫০০ ডেলিভারির হিসেবের নিরিখে টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য ইকোনমি রেট প্রসিদ্ধরই। তাই তাঁকে বসিয়ে বাঁ হাতি অর্শদীপকে খেলানো উচিত ছিল বলে অনেকে সওয়াল করছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা? ভারতীয় দলে গম্ভীর-যুগ চলছে। তিনি যেটা ভালো বুঝবেন, সেটাই করবেন। আর তা কখনও কখনও হয়ে দাঁড়াবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তবে শুধু প্রসিদ্ধ নন, রবীন্দ্র জাদেজাও নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ। গত ম্যাচেও হতাশ করেছিলেন জাড্ডু। এজবাস্টনে প্রথম ইনিংসে তাঁর ঝুলি শূন্য। আসলে ব্যাটিংয়ে বেশি মনোনিবেশ করতে গিয়ে বোলিংয়ে ধার কমেছে। সঙ্গী ওয়াশিংটন সুন্দরও বড়ই সাদামাটা। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বোলিং কোচ মর্নি মর্কেলকে রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডুবেছিল ভারত। তারপরেও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন পেসারকে জামাই আদর করে রাখা হয়েছে। কারণ, তিনি কোচ গম্ভীরের প্রিয়ভাজন। একই সঙ্গে মেনে নিতে হবে কঠিন বাস্তব। সামি, বুমরাহদের বিকল্প নেই। সাপ্লাই লাইনের দুর্বলতা প্রকট। যাইহোক, তৃতীয় দিন শেষবেলায় প্রসিদ্ধ-জাদেজাদের ব্যর্থতা কিছুটা ঢাকা পড়ল সিরাজ ও আকাশ দীপের সৌজন্যে। তা নাহলে ১৮০ রানের লিড নেওয়া সম্ভব হতো না।
ফিল্ড প্লেসিং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘এত রানের পুঁজি নিয়েও ভারত অধিনায়ক সাহসী হতে পারেনি। একটা স্লিপ ও গালি নিয়ে কিছুই হবে না। সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে ইংরেজ ব্যাটাররা। অবশ্যই স্লিপ কর্ডন দরকার ছিল। তাতে ৪০-৫০ রান অতিরিক্ত গেলে যেত, কিন্তু কয়েকটা উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারত।’