সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: আলোর উৎসব মানেই মাটির প্রদীপের আলাদা চাহিদা। বৈদ্যুতিক আলো ও নানা ধরনের আধুনিক আলোকসজ্জার রমরমা থাকলেও কালীপুজো এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে মাটির প্রদীপ জ্বালানোর রীতি আজও অটুট। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে প্রদীপের ধরন ও সাজসজ্জা। একসময় যেখানে সাধারণ মাটির প্রদীপেরই বেশি কদর ছিল, সেখানে এখন ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় ঠাঁই করে নিচ্ছে রংবেরঙের নকশা করা বাহারি সব প্রদীপ। কালীপুজোর আগে কৃষ্ণনগরের বাজারে তাই সাধারণ প্রদীপের পাশাপাশি বাড়ছে নানা নকশা ও আকৃতির রংবেরঙের প্রদীপের চাহিদা।
ইতিমধ্যেই কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন বাজার ও দোকানে শুরু হয়েছে মাটির প্রদীপের বিক্রিবাটা। ছোটো-বড়ো নানা আকারের প্রদীপের পাশাপাশি দোকানগুলিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে রঙিন ও কারুকাজ করা সব প্রদীপ। শুধু পুজোর কাজে নয়, বাড়ির ভেতর সাজানোর জন্যও এই প্রদীপ ব্যবহার করতে চাইছেন অনেকেই। ফলে সাধারণ প্রদীপের পাশাপাশি নকশা করা প্রদীপের বাজারও ক্রমশ বড়ো হচ্ছে। ক্রেতাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখেই মৃৎশিল্পীরা এখন নতুন নতুন নকশা ও রঙের প্রদীপ বানিয়েছেন।
মৃৎশিল্পীদের কথায়, আগে অধিকাংশ মানুষ পুজোর জন্য একসঙ্গে অনেক সাধারণ প্রদীপ কিনতেন। কিন্তু বর্তমানে বাড়ি সাজানোর ক্ষেত্রেও প্রদীপের ব্যবহার বেড়েছে। তাই শুধু মাটির প্রদীপ তৈরি করলেই হচ্ছে না, ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে তাতে যোগ করতে হচ্ছে নানা রকম নকশা ও রঙের ছোঁয়া। পাঁচমুখী প্রদীপ, ফুলের নকশা, আলপনা এবং দেবদেবীর আদলে তৈরি প্রদীপের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। দামও রাখা হয়েছে বিভিন্ন ক্রেতার সাধ্যের কথা মাথায় রেখে। সাধারণ ছোটো মাটির প্রদীপের দাম শুরু হচ্ছে মাত্র এক টাকা থেকে। অন্যদিকে, নকশা ও আকৃতি অনুযায়ী ডিজাইন করা প্রদীপ বিকোচ্ছে ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দামে।
রাহুল পাল নামে এক দোকানদার বলেন, সামনেই কালীপুজো। তার উপর কার্তিক মাস জুড়েই বাড়িতে, বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। আগে সাধারণ প্রদীপের বিক্রিই বেশি ছিল। এখন মানুষ পুজোর পাশাপাশি ঘর সাজানোর জন্যও একটু অন্য ধরনের প্রদীপ খোঁজেন। তাই রঙিন ও নকশা করা প্রদীপের চাহিদাই বেড়েছে।
কৃষ্ণনগরের এক মৃৎশিল্পী জ্যোৎস্না পাল জানান, আগে মূলত এক রঙের সাধারণ প্রদীপ বানাতাম। এখন মানুষের চাহিদা অনুযায়ী ফুল, পাখা, পায়রা ও আলপনার নকশা দিয়ে প্রদীপ সাজাই। রঙের ব্যবহারেও বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে। এতে বিক্রিও বাড়ছে।



