Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুই ‘ঘাতক’ উপাদান খোঁজাই লক্ষ্য, দেশের সমস্ত জলীয় অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মান পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

মধ্যপ্রদেশে বিষাক্ত কাফ সিরাপে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় শেষমেশ ঠেকে শিখল কেন্দ্র। শুধু কাফ সিরাপই নয়, ভারতে বিক্রি হওয়া সমস্ত ওষুধের দ্রবণে দুই ঘাতক ক্ষতিকারক উপাদান আদৌ আছে কি না এবং থাকলেও তা সহনমাত্রার মধ্যে আছে কি না, পরীক্ষা করে দেখা বাধ্যতামূলক বলে জানাল কেন্দ্র।

দুই ‘ঘাতক’ উপাদান খোঁজাই লক্ষ্য, দেশের সমস্ত জলীয় অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মান পরীক্ষার সিদ্ধান্ত
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: মধ্যপ্রদেশে বিষাক্ত কাফ সিরাপে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় শেষমেশ ঠেকে শিখল কেন্দ্র। শুধু কাফ সিরাপই নয়, ভারতে বিক্রি হওয়া সমস্ত ওষুধের দ্রবণে দুই ঘাতক ক্ষতিকারক উপাদান আদৌ আছে কি না এবং থাকলেও তা সহনমাত্রার মধ্যে আছে কি না, পরীক্ষা করে দেখা বাধ্যতামূলক বলে জানাল কেন্দ্র। এই দুটি উপাদান হল ডাই ইথিলিন গ্লাইকল (ডিইজি) এবং ইথিলিন গ্লাইকল। যদি ওষুধের দ্রবণে ওষুধের গুণমান সংক্রান্ত নিয়ামক সংস্থা ইন্ডিয়ান ফার্মাকোপিয়া কমিশন ১০ অক্টোবর এই নির্দেশ জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, ডিইজি এবং ইথিলিন গ্লাইকল যদি থাকেও তা থাকতে ০.১ শতাংশ—এই সহনমাত্রার মধ্যে। এর মধ্যে ‘ডিইজি’ই মধ্যপ্রদেশে শিশুমৃত্যু কাণ্ডের প্রধান কালপ্রিট বলে এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, এতদিন দেশে বিক্রি হওয়া সমস্ত ওষুধের দ্রবণ বা সলিউশনের কাঁচামালের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক ছিল। বাধ্যতামূলক ছিল না এন্ড প্রোডাক্ট বা বাজারজাত ওষুধের সিরাপের গুণগত মান পরীক্ষায় কড়াকড়ি। মধ্যপ্রদশের কাফ সিরাপ কাণ্ডের পর নয়া সংশোধনী এনে ভারতীয় ফার্মাকোপিয়াতে বাজারজাত সিরাপের গুণমান যাচাইয়েও কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। 
রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের এক আধিকারিক বলেন, অধিকাংশ সিরাপেই সাধারণ কাঁচামাল হিসেবে থাকে প্রোপিলিন গ্লাইকল, গ্লিসারিন অথবা সরবিটল। ক্ষতিকর উপাদান হিসেবে পাওয়া যেত ডাই ইথিলিন গ্লাইকল অথবা ইথিলিন গ্লাইকল। সহনমাত্রার বেশি থাকলে সেই সিরাপ বা সলিউশন বাজেয়াপ্ত করে দেওয়া হতো। কিন্তু লাগাম থাকত না এন্ড প্রোডাক্টে। এইবার ফার্মাকোপিয়াতেও দুটি ঘাতক উপাদান পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে দেওয়ায় দেশে বিক্রি হওয়া সমস্ত কাশির সিরাপ এবং অন্যান্য সলিউশনে ঘাতক উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে কি না জানতে পরীক্ষা করতেই হবে। 
সূত্রের খবর, তামিলনাড়ুতে তৈরি হওয়া ওই বিষাক্ত কাফ সিরাপ দেশের চারটি রাজ্যে ছড়িয়ে গিয়েছিল। সেগুলি হল মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, ওড়িশা এবং পুদুচেরি। খোঁজখবর নিয়ে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল জানতে পেরেছে প্রায় ২ হাজার বোতল বিষাক্ত সিরাপ ছড়িয়ে গিয়েছিল। পৌঁছে গিয়েছিল বিভিন্ন রাজ্যের স্টকিস্টের কাছে। মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলার অভিশপ্ত সেই গ্রামটি ছাড়াও আর কোথায় কোথায় শিশুদের কাছে সিরাপ পৌঁছে গিয়েছিল কি না,তা নিয়ে সরকারি মহলে উদ্বেগ ছিল। শেষ পর্যন্ত সাপ্লাই চেইন ধরে ধরে চার রাজ্যের স্টকিস্টদের কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রতিটি বিষাক্ত কাফ সিরাপের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। ড্রাগ কন্ট্রোলের পোড়-খাওয়া আধিকারিকদের একাংশ জানান, সমস্যা হল, প্রোপিলিন গ্লাইকল, গ্লিসারিন অথবা সরবিটল জাতীয় উপাদান বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধেও ব্যবহার হয়। ব্যবহার হয় দাঁতের ঩বিভিন্ন মেডকেটেড পেস্টেও। সেগুলির পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ