নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বেআইনি জলের কারখানাগুলিকে বাগে আনতে এবার কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। কারণ, তাদের বারবার সতর্ক করেও লাভ হয়নি। এবার এই ধরনের জলের কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। শুধু তাই নয়, নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স না দেওয়া এবং তা পুনর্নবীকরণের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে বলে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি জেলাশাসকের নেতৃত্বাধীন ‘ডিস্ট্রিক্ট লেভেল গ্রাউন্ড ওয়াটার রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’র বৈঠক হয়েছিল। বেআইনি জলের কারখানাগুলি যেভাবে নির্বিচারে ভূগর্ভস্থ জল তুলছে, তা আটকানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে। সদস্যরা সেখানেই সর্বসম্মতভাবে এই দু’টি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন বলে খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সব ব্লকেই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অবৈধ জলের কারখানা। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে উন্নয়ন পর্ষদ। হিসেব করে দেখা গিয়েছে, গোটা জেলায় যথাযথ নিয়ম না মেনে ৭০০’র বেশি এমন জলের কারখানা চলছে। আইন মেনে ভূগর্ভের জল তুলতে গেলে একাধিক অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু এসব কারখানায় তার কোনও বালাই নেই। প্রশাসন থেকে তাদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। তারা কর্ণপাত করেনি। তাই এবার কারখানাগুলির কাজকর্ম বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। হিসেব করে দেখা গিয়েছে, প্রায় ৩০০টি জলের কারখানার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। অনেক জলের কারখানার মালিক একটি ট্রেড লাইসেন্স বের করেই দিনের পর দিন এই কাজ করে চলেছেন। কিন্তু ভূগর্ভের জল তোলার জন্য তাদের স্টেট ওয়াটার ইনভেস্টিগেশন ডিরেক্টরেটের অনুমতি এবং খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত লাইসেন্স থাকা প্রয়োজন। তাদের কোনওটি নেই। তাই পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এবং পুরসভা যাতে এই দু’টি নথি ছাড়া কোনও জলের কারখানার ব্যবসায়ীকে ট্রেড লাইসেন্স না দেয়, তার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র