গৌতম কর: বাংলায় চেনা প্রবাদ—‘যত দোষ নন্দ ঘোষ।’ শুক্রবার সকালে পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ দেখতে এই কথাটাই মনে পড়ল। গোল বাতিল নিয়ে গোলমাল। পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ তাই নিয়েই সরগরম। সোশ্যাল মিডিয়ায় কাঠগড়ায় রেফারি। এমন পরিস্থিতিতে প্রাক্তন ফিফা রেফারি হিসাবে একেবারেই অবাক নই। বরং হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে এসবই স্বাভাবিক। ফুটবল ম্যানুয়ালের নিয়ম মেনে ম্যাচ পরিচালনা করাই রেফারির কাজ। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল করে কোনো ভুল করেননি রেফারি। নিয়ম জানা থাকলেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাবে। এবারের বিশ্বকাপকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিচ্ছে প্রযুক্তি। তাকে ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব।
সংযোজিত সময়ে ইউসেবিওর দেশ ২-১ গোলে এগিয়ে। সমতা ফেরাতে মরিয়া ক্রোয়েশিয়া। বিপক্ষ বক্সের ডানদিকে ফ্রি-কিক পায় লুকা মডরিচরা। পেরিসিচের ক্রস ভেসে আসে বক্সে। ক্রোয়েশিয়ার মাতানোভিচ হেড করতে লাফায়। তাকে কভার করছিল পর্তুগালের ডিফেন্ডার রেনাতো ভেইগা। বল তার মাথায় লেগে ছিটকে যায় পালাসিচের কাছে। তার বাড়ানো পাস থেকে জাল কাঁপায় ভার্দিওল। এরপরেই নাটকীয় মুহূর্ত। ক্রোয়েশিয়ার সেলিব্রেশনের মাঝেই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে গোল বাতিল করা হয়। এখানেই মেগা বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে পর্তুগালের ভেইগার মাথায় বল স্পর্শ করা সত্ত্বেও অফসাইড কেন? পাঠক, এক্ষেত্রে ট্রায়ান্ডো বলের সঙ্গে যুক্ত চিপ সিগন্যাল দেয় হেড করার সময় রেনাতোর আগেই তা মাতানোভিচের চুল স্পর্শ করেছিল। সেই মুহূর্তে অফসাইডে ছিল পালাসিচ। এরপর পর্তুগালের রেনাতোর শরীরেও বল ডিফ্লেক্ট হয়। নিয়ম অনুযায়ী অনিচ্ছাকৃত ডিফ্লেকসনের ক্ষেত্রে অফসাইড নিয়ম প্রযোজ্য। তাই অহেতুক জলঘোলা করা বৃথা। চলতি বিশ্বকাপে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংযোজিত সয়ে পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কেন খেলা চালানো হচ্ছে তা নিয়েও অনেকে ক্ষুব্ধ। রেফারি রানিং টাইম দেখার ঘড়ির পাশাপাশি স্টপ ওয়াচ ব্যবহার করেন। তাই সময় চুরি করার দিন শেষ।
লেখক প্রাক্তন ফিফা রেফারি।