


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে একসঙ্গে চারটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির তৎপরতা শুরু হয়েছে। মূলত, সদর শহর লাগোয়া এলাকায় এই শিল্প পার্কগুলি তৈরি করা হবে। এই জন্য প্রায় ১০৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা সদর চুঁচুড়া লাগোয়া বাবনান, তালচিনান, সুগন্ধা ও গোস্বামী মালিপাড়ায় এই শিল্পপার্কগুলি হবে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। পার্ক গড়ার জন্য যাবতীয় উদ্যোগ শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পগুলির জন্য সরকারের সবুজ সংকেত মেলা কেবল সময়ের অপেক্ষা। তাই কাজ কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যাতে অনুমোদন মেলার পরে আর সময় নষ্ট না হয়।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই হুগলির দু’টি শিল্পপার্ক বা শিল্পের জন্য বরাদ্দ জমিতে নানা প্রকল্প হয়েছে। সেখানে সরকারি পরিকাঠামো সহ অন্যান্য কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। একাধিক উদ্যোক্তা সেখানে প্রকল্পের জন্য উৎসাহ দেখিয়েছেন। ধনেখালির বেলমুড়ি ও চণ্ডীতলায় দু’টি শিল্পপার্কই জনপ্রিয় হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চণ্ডীতলায় ৩৬.৫ এবং বেলমুড়িতে ৫৪.৫৭ একর জমিতে ওই পার্ক গড়া হয়েছে।
হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় ও সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, শিল্পপার্ক নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিত ধরেই বেশ কিছু জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল। তারমধ্যে ডানকুনি ও চণ্ডীতলায় প্রকল্প রমরমিয়ে চলছে। চুঁচুড়া লাগোয়া ব্লকগুলিতে আরও চারটি শিল্পপার্কের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের নীতিগত সমর্থন মিলেছে। আমরা সেখানে শিল্পোদ্যোগীদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি শুরু করেছি। হুগলি জেলায় ক্ষুদ্র ও বৃহৎ শিল্পের সঙ্গে পর্যটন শিল্পের প্রসারে জেলা পরিষদের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল। তা রূপায়ণের কাজ চলছে। হুগলি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, ধনেখালির বেলমুড়ি শিল্পপার্ককে ঘিরে আগ্রহ বেড়েছে শিল্পোদ্যোগীদের। এটি জেলার ল্যান্ডমার্ক প্রকল্প হিসাবে চিহ্নিত। আমাদের সরকার কৃষি থেকে স্বরোজগার, শিল্প থেকে পশুপালন— সর্বত্র সমান নজর দিয়ে কাজ করছে। সেই নিরিখে নতুন নতুন শিল্পপার্ক গড়ার সলতে পাকানোর কাজ চলছিল। বর্তমানে তার অনেকগুলিই সফলভাবে রূপায়িত হওয়ার পথে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পোলবার তালচিনানে এমএসএমই দপ্তরের শিল্পপার্ক তৈরি হবে। সেখানে প্রায় আট একর জমি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বৃহত্তম শিল্পপার্কটি হবে গোস্বামী মালিপাড়ায়। সেখানে ৭০ একর জমি দেওয়া হয়েছে। বাবনান ও সুগন্ধার জন্য ১০ একর করে জমি দেওয়া হয়েছে।