Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নামে-বেনামে দেবরাজের হাজার কোটির সম্পত্তি! দাবি তদন্তকারীদের, এবার ইডির স্ক্যানারে. ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ অদিতি মুন্সিকেও

দেবরাজ চক্রবর্তীর নামে ১,০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইডি। অদিতি মুন্সিরও জিজ্ঞাসাবাদ। বিস্তারিত পড়ুন।

নামে-বেনামে দেবরাজের হাজার কোটির সম্পত্তি! দাবি তদন্তকারীদের, এবার ইডির স্ক্যানারে.  ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ অদিতি মুন্সিকেও
  • ৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বনামে-বেনামে ১০০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি ছড়িয়ে রয়েছে দেবরাজ চক্রবর্তীর! প্রাথমিকভাবে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তদন্তকারীরা। তোলাবাজির মামলায় ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্ত থেকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে সাতদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। যদিও তাঁকে ১০ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছিল। কারণ, পুলিশের পাশাপাশি তৃণমূল যুব কংগ্রেসের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সভাপতি দেবরাজের আয় বর্হিভূত সম্পত্তি এখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) স্ক্যানারেও। ইতিম঩ধ্যেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক তথা কীর্তন শিল্পী অদিতি মুন্সির আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নির্বাচনি হলফনামা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের কপি জোগাড় করে ‘ছানবিন’ শুরু করেছে। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট (ইসিআইআর) নথিভুক্ত করে আগামী সপ্তাহে তদন্তে নামবে ইডি। 

Advertisement

গত ২২ মে কেষ্টপুর রবীন্দ্রপল্লির এক প্রোমোটার অভিজিৎ সাহা বাগুইআটি থানায় দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ৩০ লাখ এবং তাঁর এক ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলার মনীশ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা জোর করে তোলা আদায়ের লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বাগুইআটি থানায় মামলা শুরু হয়। সেই সময় থেকেই পলাতক দেবরাজ। তদন্তকারীদের দাবি, কখনও ডুয়ার্সে নিজের রিসর্টে, কখনও কালিম্পংয়ে, কখনও বেঙ্গালুরুতে পরিচিতের ডেরা এবং শেষ পর্যায়ে ঝাড়খণ্ডের বোকারো স্টিল সিটি, ধানবাদ এবং রাঁচির কাছে পত্রাতু ভ্যালির এক রিসর্টে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন দেবরাজ। 
এই পর্বেই দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আয় বর্হিভূত সম্পত্তির আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। হাইকোর্টে মামলা হয়। গ্রেপ্তারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেন দম্পতি। চার মাসের সন্তান রয়েছে, সেই গ্রাউন্ডে অদিতিকে আগাম জামিন দিলেও, দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। তারপর নিজের বা নিজের বিনিয়োগ করা হোটেল-রিসর্ট ছেড়ে অপেক্ষাকৃত কম ভিড়ের জায়গায় থাকতে শুরু করেছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ। তদন্তকারীরা বলছেন, এই পর্বে এক সঙ্গীর মোবাইল ফোন মাঝেমধ্যে ব্যবহার করছিলেন দেবরাজ। চারদিন অন্তর ‘অন’ করা হচ্ছিল সেটি। সেই ফোন থেকে বাড়িতে ফোন করে সন্তানের অন্নপ্রাশনের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার সময়ই পুলিশের নজরে আসে দেবরাজের অবস্থান। 
ফোন ট্র্যাক করে জানা যায়, একটি বাসে চেপে রাঁচি থেকে পুরুলিয়ার দিকে আসছেন দেবরাজ। সেই অনুযায়ী জাল পেতে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। বিধায়ক তরুণজ্যোতির অভিযোগ, ‘হাজার নয়, স্বনামে এবং কয়েকজন শাগরেদের নামে ১৩০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি করেছেন দেবরাজ। এবার সব সামনে আসবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ