নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কলকাতা: পালাবদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বিধাননগর কমিশনারেটের বাগুইআটি থানায়। তারপর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী তথা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। অবশেষে সেই অভিযোগের একমাস পর বুধবার পুরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হল দেবরাজকে। তিনি সেখানে একটি রিসর্টে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। যে দু’জন সঙ্গী তাঁর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করেই দেবরাজের খোঁজ মিলেছে। ধৃত দেবরাজ ‘অভিষেক ঘনিষ্ঠ’ বলেই পরিচিত। এই নিয়ে বিধাননগরের সাতজন বিদায়ী কাউন্সিলার গ্রেপ্তার হলেন। তাঁর গ্রেপ্তারির পর এদিন সন্ধ্যায় রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারির ফেসবুকে ছোট্ট পোস্ট—‘গন’।
বিধাননগর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার এবং মেয়র পারিষদ (জঞ্জাল) ছিলেন দেবরাজ। রাজারহাট-গোপালপুরের দাপুটে নেতা। কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ মে এক প্রোমোটার দেবরাজের বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় ৩০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ ১৩টি ধারায় মামলা রুজু করে। গা-ঢাকা দেন দেবরাজ।
প্রসঙ্গত, তোলাবাজির এই অভিযোগ ছাড়াও হলফমানায় আয় বহির্ভূত রোজগার নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন বিধায়ক তরুণজ্যোতি। সেই মামলায় তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির আগাম জামিনের আরজি মঞ্জুর হলেও, দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়। কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটির পুরানো তোলাবাজির মামলায় এসটিএফ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গিয়েছে, এর আগে দেবরাজ ঘনিষ্ঠ এক কাউন্সিলার গ্রেপ্তার হয়েছে। জেরায় সে দেবরাজের তোলাবাজির কথা স্বীকারও করেছে। দেবরাজ উত্তরবঙ্গে ছিলেন। সেখান থেকে পুরুলিয়া যান। ফোন ব্যবহার করছিলেন না। বিধাননগরের এক প্রাক্তন কাউন্সিলার এবং রাজারহাট এলাকার এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তাঁর দেখভাল করছিলেন। সম্প্রতি, তাঁরা নতুন সিমকার্ড ব্যবহার করায় পুলিশের নজরে আসে। একটি এটিএম থেকে টাকাও তুলেছিলেন। তারপরই পুরুলিয়ায় হানা দিয়ে দেবরাজকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ।