Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কসবায় পানীয় জলের সংযোগ কেটে দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক

পানীয় জলের সংযোগ কেটে দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে কসবায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আসরে নামতে হয়েছে স্বয়ং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে।

কসবায় পানীয় জলের সংযোগ কেটে দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পানীয় জলের সংযোগ কেটে দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে কসবায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আসরে নামতে হয়েছে স্বয়ং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার তরফে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, কোথাও পানীয় জল সরবরাহের সংযোগ কাটতে হলে বিভাগীয় ডিজিকে জানাতে হবে। তাঁর অনুমতি ছাড়া ওই কাজ করা যাবে না। পাশাপাশি, মেয়রের নির্দেশে ছিন্ন করে দেওয়া জলের লাইনের সংযোগ ফের জুড়ে দেওয়া হয়েছে এদিনই। 

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। রাজডাঙা পূর্বপাড়া থেকে জলের কল তুলে দেওয়ার অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, এলাকায় চারটি কল ছিল। সেগুলির জলের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তির চিল স্থানীয় ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার লিপিকা মান্নার দিকে। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, তৃণমূলকে ভোট দেন না, মিছিলে হাঁটেন না বলেই তাঁদের এলাকা থেকে জলের কল সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরসভার সংশ্লিষ্ট ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুশান্তকুমার ঘোষের কাছে এনিয়ে নালিশ জানান তাঁরা। সমাধানের আশ্বাস দেন সুশান্ত। সূত্রের খবর, তারপরই জল সরবরাহ বিভাগের বরো-আধিকারিককে ওই সংযোগ জুড়ে দিতে বলেন তিনি। তারপরও সোমবার কোনও কাজ হয়নি। পাল্টা লিপিকাদেবী দাবি করেন, ‘পাড়ার এক প্রান্তে কলগুলি ছিল। সেগুলি সরিয়ে পাড়ার মাঝামাঝি জায়গায় ১২টি দ্বিমুখ বিশিষ্ট স্ট্যান্ড পোস্ট অর্থাৎ মোট ২৪টি কল দেওয়া হয়েছে। তারপরও কীভাবে বলা হচ্ছে যে ভোট দেয় না বলে আমি জলের লাইন কেটে দিয়েছি? সত্যি যদি তা-ই হতো, তাহলে তো নতুন ২৪টি কল করে দিতাম না।’ এই অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে ডামাডোল শুরু হওয়ায় সোমবার রাতে সুশান্তর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মেয়র। লিপিকাদেবীর সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। কলগুলি পুনরায় আগের জায়গায় বসানোর নির্দেশ দেন ফিরহাদ। মঙ্গলবার সকালে লিপিকাদেবী ওই এলাকায় যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিন সকাল থেকে জলের সংযোগ জুড়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। সুশান্ত বলেন, ‘মানুষ পানীয় জল পেয়েছে। মেয়রকে ধন্যবাদ।’ 
সেই সঙ্গে মেয়র জল সরবরাহ বিভাগকে নির্দেশ দেন, কোনও কাউন্সিলার বললেই যেন লাইন কেটে না দেওয়া হয়। কারণ, জল অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। যদি মনে হয় যে জল অপচয় হচ্ছে, তবে তা ডিজিকে জানাতে হবে। ডিজি পরিদর্শনের পর জানাবেন, সেখানে সংযোগ থাকবে  কি থাকবে না।’ মেয়রের আরও সংযোজন, ‘কাউন্সিলাররা হচ্ছেন নীতি নির্ধারক। তাঁরা প্রস্তাব দিতে পারেন। কিন্তু তা কার্যকর করবেন পুরসভার কমিশনার কিংবা আধিকারিকরা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ