Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেবাংশুর খোলা চিঠি, আবেগঘন আহ্বান ঘিরে আলোড়ন চুঁচুড়ার নাগরিক মহল্লায়

‘ভোট ভিক্ষা নয়, ঋণ হিসাবে আশীর্বাদ চাইছি। কথা দিচ্ছি, পাঁচ বছর বলবেন যে তোমায় জিতিয়ে ভুল করিনি।’ একথা এক প্রার্থীর। তিনি মুখে বলেননি। লিখেছেন চিঠি। আর সেই খোলা চিঠি ঘিরে আলোড়ন পড়েছে নাগরিক মহল্লায়।

দেবাংশুর খোলা চিঠি, আবেগঘন আহ্বান ঘিরে আলোড়ন চুঁচুড়ার নাগরিক মহল্লায়
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ‘ভোট ভিক্ষা নয়, ঋণ হিসাবে আশীর্বাদ চাইছি। কথা দিচ্ছি, পাঁচ বছর বলবেন যে তোমায় জিতিয়ে ভুল করিনি।’ একথা এক প্রার্থীর। তিনি মুখে বলেননি। লিখেছেন চিঠি। আর সেই খোলা চিঠি ঘিরে আলোড়ন পড়েছে নাগরিক মহল্লায়। হুগলি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের মর্মস্পর্শী ওই খোলা চিঠি এখন নেট নাগরিকের ভাষায় ‘ভাইরাল’। শুধু খোলা চিঠি নয়, শপথও করছেন দেবাংশু। মুখে মুখে নয়, লিখিতভাবে। আর আছে দেবাংশুকে নিয়ে বাঁধা গান। সেই গান সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ট্যাবলো। ভিন্নধর্মী প্রচারে চুঁচুড়ার মাঠে ময়দানে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিপ্লোমাধারী ভোটপ্রার্থী।

Advertisement

ঠিক কতটা প্রভাব ওই প্রচার পদ্ধতির? চুঁচুড়ার অলিতেগলিতে গত প্রায় সাতদিন ধরে ঘুরছে দেবাংশুকে নিয়ে গান শোনানো ট্যাবলো। রবিবার থেকে পালটা মাঠে নেমেছে বিজেপির টোটো-ট্যাবলো। তাতে রাজ্য সরকার থেকে চুঁচুড়ার উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে তা রেকর্ড করে বাজানো হচ্ছে। আর চিঠি? চুঁচুড়া স্টেশনের সাইকেল স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েছিলেন তোলাফটকের বাসিন্দা এক শিক্ষক। পরিচিত একজনের সঙ্গে গল্প করতে করতে বলছিলেন, ‘দেবাংশুর খোলা চিঠিটা দেখেছ, কী অনবদ্য আবেদন। কত বিনয়ী বয়ান।’ পাশে দাঁড়িয়ে যিনি সম্মতিসূচক ইঙ্গিত করছিলেন, তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে বামপন্থী হিসাবে পরিচিত। দেবাংশু তাঁর চিঠিতে যেমন লিখেছেন, তেমনি বলেনও, ‘আমি প্রতিশ্রুতির পাহাড় সাজাতে পারি না। কোনো অসম্ভবের কথা বলতে চাই না। আমার মা-বোন-ভাই-দাদা, প্রত্যেক নাগরিককে এটাই বলতে চাই যে সবসময় পাশে থাকব। নাগরিকদের চাহিদা মোতাবেক কাজ করব। সেটাই আমার অঙ্গীকার। চিঠিতে বলেছি, আমাকে একবার চুঁচুড়ায় কাজ করার সুযোগ দিন। পাঁচ বছর পর কোনো আক্ষেপের সুর চুঁচুড়ার কোনো নাগরিকের মুখে থাকবে না।’ বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ বলেন, ‘নিজেকে প্রার্থী হিসাবে তুলে ধরার জন্য কে কেমন করে প্রচার করবেন, সেটা তাঁর বিষয়। আমরা কাউকে দেখে ট্যাবলো বার করিনি।’ আর বামফ্রন্টের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী সুনীল সাহা বলেন, ‘আমরা সবাই নিজেদের দল ও মতের কথা বলছি। নানাভাবে বলছি। এবার মানুষের দায়িত্ব, তাঁরা কোনটা বেছে নেবেন।’
রঙে ঠাসা ছাপানো চিঠি প্রকাশ করেছেন দেবাংশু। একদিকে আছে এক গভীর আবেগময় আবেদন আর অন্যদিকে নেত্রী ও দলের সেনাপতির সঙ্গে প্রার্থীর ছবি। তার নীচে নিকাশি-স্বাস্থ্য-আলোকময় চুঁচুড়া গড়ার তিন শপথ। দর্শনধারী সেই চিঠি চোখে দেখার থেকেও বেশি চর্চায় আসছে দেবাংশুর আবেদন। কখনও বলছেন, ‘আমার কোথাও ভুল হলে শুধরে দেবেন। মাথা পেত নেব সেই পরামর্শ।’ আবারও কখনও লিখছেন, ‘একবার ভরসা করে দেখুন, আপনাদের মাথা নত হতে দেব না।’ অপাপবিদ্ধ বয়ান, শীতল প্রকাশ, ছত্রেছত্রে নতশির এক ভোটপ্রার্থী—খোলা চিঠি চুঁচুড়ার অলিগলিতে সাড়া ফেলেছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ