নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: গঙ্গার ঘাটে জলে ডুবে মৃত্যু বাড়ছে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। নৈহাটি রামঘাট, কাঁকিনাড়া ঘাট বা বারাকপুরের বিভিন্ন ঘাটে প্রায়ই জলে ডুবে মৃত্যুর খবর শোনা যাচ্ছে। সেই কারণে নৈহাটি পুরসভা এলাকায় থাকা গঙ্গার ঘাটগুলি অবিলম্বে মেরামত করা প্রয়োজন বলে মনে করছে পুর কর্তৃপক্ষ। তাই তারা পরিবহণ দপ্তরকে চিঠি দিয়ে বড়মা ফেরিঘাট, রামঘাট, গোয়ালাপাড়া ঘাট অবিলম্বে সংস্কারের আবেদন জানিয়েছে। গত শনিবার ইউসুফ খান নামে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রামঘাটে স্নান করতে নেমে জলে ডুবে মারা যায়। নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে স্নান করতে নেমে জলে ডুবে বেশ ক’জনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছি, ঘাটগুলির ৪-৫ ফুট নীচে গভীর গর্ত হয়ে গিয়েছে। জলের তোড়ে ঘাট ভেঙে যাচ্ছে। কেউ নামলে আর উঠতে পারছেন না। আটকে যাচ্ছেন। রামঘাটের পাশে শ্মশান রয়েছে। বহু মানুষ সেখানে দাহ করাতে আসেন। তারপর গঙ্গায় স্নান করেন। তাই রামঘাটকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। একই রকম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বড়মা ফেরিঘাট। যেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চুঁচুড়া ও নৈহাটির মধ্যে যাতায়াত করেন। মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ফেরি সার্ভিসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। অবিলম্বে এই সমস্ত গঙ্গার ঘাট মেরামত করা প্রয়োজন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁকিনাড়া গঙ্গার ঘাটে প্রায়শই ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত তিন মাসে প্রায় সাত থেকে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সমস্ত গঙ্গার ঘাট বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নমামি গঙ্গে প্রকল্প কেন্দ্র সরকার নিলেও ঘাটগুলি মেরামত করার ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেই। এ ব্যাপারে পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার শুধু মুখে বলে কিন্তু তার বাস্তবে কিছু করে না। কেন্দ্রীয় সরকারের অবিলম্বে এগিয়ে আসা উচিত।



