নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কোন্নগরের বারো মন্দির ঘাটে গঙ্গার বুকে একটি লুকানো ‘দহ’ আছে। আর পাঁচটা দহের মতো কোন্নগরের দহতেও আছে ঘূর্ণি। বারো মন্দির ঘাটে সেই ঘূর্ণিতে পড়েই গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছেন অনেকে। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। নদীখাতের কারণে বা কোনও প্রাকৃতিক কারণে দহ বা গহ্বর তৈরি হয়। বাসিন্দাদের দাবি, বারো মন্দির ঘাটে মরণফাঁদের পিছনে ওই বিপুল গহ্বরের ভূমিকা আছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই দহ শতাব্দী প্রাচীন। বিষয়টি লোকমুখে যেমন প্রচারিত, তেমনই বারো মন্দিরের সিঁড়ির কাছে নিয়মিত ঘূর্ণিতে ওই দহ তার অস্তিত্ব জানান দেয়।
সোমবার ওই ঘাটে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া দশমের দুই পড়ুয়ার হদিশ মঙ্গলবারও মেলেনি। এদিন দিনভর তল্লাশি চলেছে। ওই দুই ছাত্রের পরিবারের জন্য এদিন রিষড়া পুরসভার উদ্যোগে ভেসেলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সঙ্গে তাঁরাও গিয়েছিলেন সন্তানদের খুঁজতে। কিন্তু হদিশ মেলেনি। এই ঘটনায় দুই পরিবারই ভেঙে পড়েছে। কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, বারো মন্দির ঘাটের কাছে দহ আছে, সেকারণে আমরা ঘাটের কাছেই সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছি। যাতে বাইরের মানুষজনও তা জানতে পারেন। স্থানীয়রা বিষয়টি জানেন। দহ থাকার কারণে সমস্যা হতেই পারে। কিন্তু আমি বলব, মানুষকে সতর্ক হতে হবে। তবেই মরণফাঁদ এড়ানো যাবে। বারো মন্দির এলাকার বাসিন্দা বাবু দাস বলেন, বছরের পর বছর ধরে ওই দহ আছে। বাইরে থেকে দেখলে দহ বোঝা যায় না। কেবল জলের ঘূর্ণি দেখা যায়। ভাটার সময় ওই দহ মারাত্মক হয়ে ওঠে। যাঁরা সাঁতার জানেন, তাঁরাও দহের টানে পড়লে হিমশিম খেয়ে যান। আর যাঁরা সাঁতার জানেন না, তাঁরা ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখীন হন। সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে ভাটার সময়। স্বভাবতই দহের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। নিখোঁজ দুই কিশোর আমন সিং এবং আদর্শ সিং রিষড়ার বাসিন্দা। রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় মিশ্রর ওয়ার্ডেই তাদের বাড়ি। বিজয়বাবু দুই পরিবারেরই ঘনিষ্ঠ। তিনি বলেন, দুই কিশোরকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সঙ্গে আমরাও পৃথকভাবে তল্লাশি করেছি। কিন্তু রাত পর্যন্ত তাদের হদিশ মেলেনি। খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। আদর্শ সিংয়ের জেঠু বিমল সিং বলেন, আমরা কিছু ভাবতেই পারছি না। কী করব, জানি না।-নিজস্ব চিত্র