Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

শ্রীলঙ্কায় মৃত বেড়ে ১৯৫, তামিলনাড়ুতে ঢোকার আগেই ক্রমে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়

সাইক্লোন দিতওয়ার প্রভাবে শনিবার থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক বৃষ্টি। রবিবার দিনভর বারিধারা অব্যাহত থাকল তামিলনাড়ুতে।

শ্রীলঙ্কায় মৃত বেড়ে ১৯৫, তামিলনাড়ুতে ঢোকার আগেই ক্রমে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
Prefer us on Google

চেন্নাই ও নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাইক্লোন দিতওয়ার প্রভাবে শনিবার থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক বৃষ্টি। রবিবার দিনভর বারিধারা অব্যাহত থাকল তামিলনাড়ুতে। রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা জলমগ্ন। ব্যহত জনজীবন। ইতিমধ্যেই বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তবে শ্রীলঙ্কার অবস্থা আরও শোচনীয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৫। এখনও নিখোঁজ শতাধিক। রাজধানী কলম্বো কার্যত জলের তলায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভেঙে পড়েছে অন্তত ২৫ হাজার বাড়ি। আশ্রয় শিবিরে রয়েছেন দেড় লক্ষ মানুষ। 

Advertisement

শনিবার ভোররাতে শ্রীলঙ্কা উপকূলে আছড়ে পড়ে সাইক্লোন দিতওয়া। এর প্রভাবে তামিলনাড়ুতে শুরু হয় বৃষ্টি। আগেই কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছিল, শ্রীলঙ্কায় আছড়ে পড়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর উপকূলের দিকে ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে সাইক্লোন দিতওয়া। রবিবার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপরই এর অবস্থান ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে গতিবেগ। রবিবার প্রায় ৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ভারতের উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়েছে সাইক্লোন দিতওয়া। তবে ঘূর্ণিঝড়টি  তামিলনাড়ুতে ঢোকার আগেই রবিবার থেকে দুর্বল হতে শুরু করেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এই ঘূর্ণিঝড়টিকে উপকূলে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় স্থলভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার জন্য ও বঙ্গোপসাগরের জলের তাপমাত্রা জনিত কারণে ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি ক্ষয় করে নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জনিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব কেটে যাওয়ার পর দুই-তিন দিনের মধ্যে উত্তুরে হাওয়া সক্রিয় হয়ে দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা কমাবে।
সাধারণত বঙ্গোপসাগরের কোনও ঘূর্ণিঝড় শ্রীলঙ্কার উপর দিয়ে যায় না। এটি ব্যতিক্রমী। আবহাওয়ার দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গোকুলচন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি অন্যরকম স্থানে সৃষ্টি হওয়ায় এটা হয়েছে। সাধারণত আন্দামান সাগর, দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে কোনও নিম্নচাপ তৈরি হয়ে সেটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। কিন্তু এই ঘূর্ণিঝড়টির উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিচের দিকে শ্রীলঙ্কা উপকূলে। যে কোনও  ঘূর্ণিঝড়ের উত্তর-পশ্চিমে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই এটি শ্রীলঙ্কার মধ্যে ঢুকে পড়ে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ