Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বকেয়া ২৬ লক্ষ টাকা চাইলেই মৃত্যুর হুমকি! স্কুলের ইউনিফর্ম তৈরি করে ফাঁপরে ব্যবসায়ী

স্কুল ইউনিফর্ম তৈরি করিয়ে পাওনা ২৬ লক্ষ টাকা না দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়। প্রাপ্য টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পোশাক নির্মাতা।

বকেয়া ২৬ লক্ষ টাকা চাইলেই মৃত্যুর হুমকি! স্কুলের ইউনিফর্ম তৈরি করে ফাঁপরে ব্যবসায়ী
  • ১১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: স্কুল ইউনিফর্ম তৈরি করিয়ে পাওনা ২৬ লক্ষ টাকা না দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়। প্রাপ্য টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পোশাক নির্মাতা। জানা গিয়েছে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে স্কুলের পোশাক তৈরি করিয়ে টাকা না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি ব্লকের দু’টি সংঘের নেত্রীর বিরুদ্ধে। শেষে জেলা প্রশাসন ও আনন্দধারা প্রকল্পের আধিকারিকদের কাছে বিচার চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন ইকবাল হোসেন নামে ওই ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ির মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার পাঁচগ্রামের খড়িকাডাঙা গ্রামে। পোশাক তৈরির একটি ছোট কারখানা রয়েছে ইকবালের। অভিযোগ, ২০১৮-২০১৯ অর্থবর্ষে সাগরদিঘি ব্লকের দু’টি সংঘের অধীনে ছ’হাজার স্কুল ইউনিফর্ম তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ড্রেসগুলি তৈরি করে সরবরাহ করেন। পোশাকগুলি দস্তুরহাট পঞ্চায়েত, বালিয়া পঞ্চায়েত এবং মোড়গ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই দুই সংঘের নেত্রীর নির্দেশে আরও তিন হাজার ৫০০ পোশাক তৈরির বরাত দেওয়া হয় তাঁকে। সেটাও তিনি সফলভাবে বানিয়ে বিতরণ করেন। মোট ১০ হাজার পোশাকের প্রতিটির মজুরি হিসেবে পোশাক পিছু ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই হিসেবে মোট বকেয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ লক্ষ টাকা। ব্যবসায়ীর দাবি, এই বিপুল অঙ্কের পাওনা টাকার মধ্যে তাঁকে মাত্র ১৯ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৬ লক্ষ টাকা দীর্ঘ দিন ধরে আটকে রয়েছে। অভিযোগ, বকেয়া টাকা চাইতে গেলে সংঘের ওই দুই নেত্রী টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং উল্টে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ইকবাল বলেন, ‘আমি একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এই ব্যাবসাই আমার একমাত্র জীবিকা অর্জনের পথ। পাওনা টাকা না মেলায় এবং ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ে আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপর্যস্ত। ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’ বাধ্য হয়ে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট ও ডিস্ট্রিক্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের আধিকারিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। নিজের বকেয়া টাকা উদ্ধার এবং ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এই পোশাক নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাকে ঠকানো হচ্ছে। সামান্য দু’ লক্ষ টাকা নিয়ে বিষয়টি মিটমাট করার জন্য বলা হচ্ছে। আমি সাংসদ থেকে নবগ্রামের বিধায়কের কাছেও গিয়েছিলাম। কোনও কাজ হয়নি। আমি কেন আমার হক পাওনা ছেড়ে দেব? আমি চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে আমার টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। আমি হাইকোর্টেও এই দুর্নীতির বিষয়ে মামলা করেছি।’

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ